ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগে টানা সাত বছর পড়েছেন ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন। তৃতীয় বর্ষের সমপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি তিনি। ফলাফলের তালিকায় নেই তার নাম। তবু্ও চতুর্থ বর্ষে পড়ছেন তিনি। এমনকি অংশগ্রহণ করেছেন চতুর্থ বর্ষের প্রথম পর্বের পরীক্ষায়। এতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বিভাগটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী, সাধারণত কোন শিক্ষার্থী সেমিস্টার বা বাৎসরিক পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হলে ফলাফলের খাতায় নাম আসে না। তবে যারা একটি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হন তাদের নাম ফলাফলের তালিকায় থাকেন। এবং তারা পরবর্তী সেমিস্টার বা বর্ষে ভর্তি হতে পারেন। ফলাফলের তালিকায় যাদের নাম আসে না তাদেরকে আগের সেমিস্টার বা বর্ষে পুনরায় পড়াশুনো করে উত্তীর্ণ হতে হয়।

এদিকে, সাদ্দাম কয়েকটি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হওয়ায় ফলাফলের খাতায় তার নাম না আসলেও তিনি পরবর্তী বর্ষে পদোন্নতি পেয়েছেন বলে জানা যায়। কয়েকটি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হয়ে পরবর্তী বর্ষে পদোন্নতি পাওয়ার নজির নেই আইন বিভাগে। সাদ্দামের বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

>>আরো পড়ুনঃ  প্রধানমন্ত্রীর নামে কোরবানি দিচ্ছেন কৃষক আবেদ

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চতুর্থ বর্ষের প্রথম পর্বের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন সাদ্দাম। এরমধ্যে দুইটি পরীক্ষা শেষও হয়েছে। এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া জন্য তার ক্লাসে উপস্থিতি রয়েছে ২০ দশমিক ৪৭ শতাংশ। যদিও কারও ২০ শতাংশ উপস্থিতি থাকার শর্তে এর আগে কারও পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়নি।

এদিকে, চতুর্থ বর্ষের পাবলিক ইন্টারন্যাশনাল ল (৪০৪) কোর্সেও ১৮টি ক্লাসের মধ্যে তার উপস্থিতি দেখানো হয়েছে ১২টিতে। তবে চতুর্থ বর্ষের একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, তিনি কোন কোর্সেই নিয়মিত ক্লাস করেন না। তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার জন্যই তার উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বিভাগটির চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. নাইমা হকের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, গত ২৭ মে আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। তাতে দেখা যায়, ১২৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে ১২১ জন পরীক্ষায় পাস করেন। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অনুত্তীর্ণ তিনজনের একজন হলেন সাদ্দাম হোসেন।

>>আরো পড়ুনঃ  বাজারে ধস, ২০ লাখের কালা মানিকের দাম ৩ লাখও বলছে না!

ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ২০১১-১২ সেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। প্রথম বর্ষ পার হতে তিনি ৩ বছর সময় নেন। ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালের প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় তিনি অকৃতকার্য হন। চতুর্থবারের প্রচেষ্টায় ২০১৫ সালে তিনি প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

এরপর ২০১৬ সালের দ্বিতীয় বর্ষের সমাপনী পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি সাদ্দাম হোসেন। ২০১৭ সালের ফাইনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৮ সালে তৃতীয় বর্ষে পদার্পণ করেন। সেই তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি শুরু হয়। সেই পরীক্ষায়ও অকৃতকার্য হয়েছেন সাদ্দাম। সর্বোপরি এই ছাত্রনেতা গত সাত বছরে পাঁচবার ফাইনাল পরীক্ষায় ফেল করেন।

এ বিষয়ে আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রহমত উল্লাহ বলেন, মানবিক বিবেচনায় বিশ^বিদ্যালয়ের অনেক বিভাগে শিক্ষার্থীদের এমন সুযোগ দেয়া হয়। তার ক্ষেত্রেও তেমন সুযোগ দেয়া হয়েছে। এ সুযোগ দেয়া না হলে অনেকেই শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়বে। সেজন্য চাইলেই সব জায়গায় আইনের প্রয়োগ ঘটানো যায় না।

>>আরো পড়ুনঃ  ঈদের বাসের যাত্রাবিরতিতে গৃহবধূকে ৬ জন মিলে ধর্ষণ

সাদ্দামের উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গেই কোন বিভাগে ফল প্রকাশিত হয় না। ফল প্রকাশের আগেই কেউ পরবর্তী বর্ষে ক্লাস শুরু করতে পারে। তার ক্ষেত্রেও এমন হতে পারে যে, ফল প্রকাশের আগে পরবর্তী বর্ষে ক্লাস শুরু করেছে। সেজন্যই তার উপস্থিতি এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. এনামুজ্জামানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সাদ্দাম হোসেন কিভাবে তৃতীয় বর্ষে পাস না করেও চতুর্থ বর্ষে পড়াশুনোর সুযোগ পেয়েছেন সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তৃতীয় বর্ষে আমার এক বিষয়ে ফেল আছে। কথা সত্যি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম আছে এক বিষয়ে অকৃতকার্যরা পরের বছর ওই বিষয়ে রেফার্ড এক্সাম দিতে পারবো। এ নিয়ম মেনে তৃতীয় বর্ষে এক বিষয়ে অকৃতকার্য একাধিক শিক্ষার্থীর মতো আমিও চতুর্থ বর্ষে কন্টিনিউ করার সুযোগ পেয়েছি।

সূত্রঃ পূর্বপশ্চিমবিডি

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ