করোনা ভাইরাসের টিকা প্রথমে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান জানাবো পৃথিবীর দেশে দেশে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা যেভাবে টিকার প্রথম ডোজ নিয়ে মানুষকে আস্থা ও ভরসা দিচ্ছেন ও আশ্বস্ত করছেন আপনারাও সেই পথ অনুসরণ করুন। তাদের মতো আপনারাও সাহসী পদক্ষেপ নিন। আপনারা আগে টিকা নিলে জনগণ ভরসা পাবে। এ টিকা নিতে সাহস পাবে গোটা দেশবাসী। টিকা নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা কাটাতে সহায়ক হবে। অনাগ্রহ কাটিয়ে দেশবাসীকে টিকায় আগ্রহী করে তুলবে।

শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ভার্চুয়ালি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে আনুষ্ঠানিকভাবে তা শুরু হবে। আমরা আশা করবো প্রথম টিকাটি প্রধানমন্ত্রী গ্রহণ করার দৃশ্য সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে। আর যদি প্রথম ডোজ টিকা না নেন তাহলে জনগণ নিশ্চিত হবে আপনাদের সবকিছুই ভন্ডামী ও ছলচাতুরী। জনগণকে কোনো দেশের পরীক্ষাগারের গিনিপিগ বানাতে চাচ্ছেন। গরীব সাধারণ আম জনতাকে আগে ভ্যাকসিন দিয়ে দেখবেন ওরা মরে না বাঁচে। সুতরাং আপনাদের বিশ্বাসের অগ্নিপরীক্ষা হবে এখন।’

‘করোনা টিকা গ্রহণের ব্যাপারে মানুষের মনে সংশয় রয়েছে। অবিশ্বাস দানা বেঁধেছে। সরকার আগে জনগণকে টিকা দিতে চায়। এতে করে গণমানুষের মনে সন্দেহ ঢুকেছে। বাংলাদেশের প্রচলিত রেওয়াজ হচ্ছে, যখন কোন সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং সেবা দেয়া হয় শুরুতেই তা ক্ষমতাসীন ও সরকার সমর্থক প্রভাবশালী লোকজন ভোগ করে থাকে। কিন্তু করোনার টিকার বেলায় ভিন্ন ব্যবস্থার কথা সরকারি দলের মন্ত্রীদের মুখে শোনা যাচ্ছে। তারা যখন বলেন, করোনার টিকা সরকারী মন্ত্রী, এমপিরা আগে পাবেন এমন ব্যবস্থা করা হয়নি তখন দেশের মানুষ কনফিউজড হয়ে পড়ে। সরকারের প্রতি আস্থার অভাবের কারণেই মানুষ চিন্তিত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে কোন কোন মন্ত্রী যখন বলেন, বিএনপি চাইলে করোনার টিকা তাদেরকে সবার আগে দেয়া হবে, তখন এই টিকার প্রতি মানুষ গভীর ষড়যন্ত্র খুঁজে পায়। টিকা প্রসঙ্গে সরকারি মন্ত্রীদের বক্তব্য সতীনের ছেলে কে বাঘ মারতে পাঠানোর মতো।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, গত এক যুগে ভারতের সঙ্গে ভক্তি-চুক্তি কিংবা যা কিছুই হয়েছে জনগণকে কিছুই জানতে দেয়া হয়নি। বরং কেউ প্রশ্ন তুললেও তাকে ‘আবরারের’ পরিণতি বরণ করতে হয়েছে। সুতরাং রক্তের বন্ধন বা স্বামী-স্ত্রীর কূটনীতির ‘জোর কিংবা জেরে’ সরকার যে ধরনের টিকাই আমদানি করুক এটি ‘ভালো কি মন্দ’ সেটি এই নিশিরাতের সরকারই ভালো জানে। সুতরাং উপহার পাওয়া টিকা যদি ‘কোভিশিল্ড’ হয় তাহলে সেই টিকা সর্বপ্রথম ‘রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী’ ও মন্ত্রী পরিষদ নিতে পারেন। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছেন, এই উপহার ‘মোদী-হাসিনা শক্তিশালী সম্পর্কের ফল’। সেই হিসেবেও ‘রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী’ সবার আগে এই টিকা পাওয়ার দাবিদার।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: