ডেস্ক রিপোর্টঃ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপির মাস্টারমাইন্ড হওয়ায় ডা. জাফরউল্লাহ সেনাপ্রধানকে নিয়ে যে স্পর্শকাতর বক্তব্য দিয়েছেন, তা প্রত্যাহার না করলে বিএনপিকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।’

শনিবার (১৩ অক্টোবর) সকালে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কের সংযোগ সড়কের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘সেনা প্রধানের মতো এমন একটা স্পর্শকাতর পজিশন, এখানেও বিএনপির মুখের বিষ ঝরে পড়ছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি এখানেও হাত দিয়েছে এবং তাদের থিংক ট্যাংকের এক নেতা সেনা প্রধানকেও আক্রমণ করতে ছাড়েনি।’

পিলখানার ঘটনায় নিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামিদের মতো পিলখানার ঘটনায় বিএনপির একটি অংশ জড়িত ছিল। ওইদিন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে প্রায় চব্বিশ ঘণ্টা নিখোঁজ ছিলেন। তিনি এই সময় কোথায় ছিলেন?

তিনি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে জানতে চান, ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা বাড়ি ছেড়ে কোথায় পালিয়ে গিয়েছিলেন বিএনপি নেত্রী। ২৪ ঘণ্টা হারানো বিজ্ঞপ্তির পর্যায়ে তিনি ছিলেন। কেন? ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামিদের মতো পিলখানা হত্যাকাণ্ডের আসামিদেরও পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। এতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন একটি টিম নিয়োজিত ছিল। এটা আমার সাজানো কথা নয়। যিনি সকাল এগারোটার আগে ঘুম থেকে উঠেন না। তিনি কেন সকাল সাড়ে সাতটায় বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেলেন?

ওবায়দুল কাদের বলেন, কানাডা ও দেশের অভ্যন্তরীণ আদালতে রায়ের মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে বিএনপি একটি আর্ন্তজাতিক সন্ত্রাসী দল। তাদের কোনো নীতি নৈতিকতা ও আদর্শ নেই। তারা এখন বেসামাল হয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে পিলখানার হত্যাকাণ্ড টেনে সরকারের বিরুদ্ধে তথাকথিত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলছে।

জাতীয় ঐক্য নিয়ে তিনি বলেন, আমি অবাক হচ্ছি যারা নীতি নৈতিকতা ও গণতন্ত্রের কথা বলে তারা খুনী ও সন্ত্রাসী দলের সাথে তথাকথিত জাতীয় ঐক্য করতে যাচ্ছে। তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে বলেন, ২১ আগস্ট মাস্টার মাইন্ড হিসেবে যাবজ্জীবন দণ্ডিত হয়েছেন। এই রায়ে পর মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর বেপরোয়া বাসের চালকের চেয়ে বেশী বেপরোয়া বক্তব্য দিতে শুরু করেছেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঢাকা বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রকৌশলী আব্দুস সবুর, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আলীউল হোসেনসহ কাচঁপুর সেতু নির্মাণ কাজে নিয়োজিত জাপানের প্রকৌশলীসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।