সাতশ ত্রিশ টাকার পাঞ্জাবি দ্বিগুণ দামে বিক্রির দায়ে আড়ংকে জরিমানা করা ভোক্তা অধিদফতরের সেই আলোচিত কর্মকর্তা মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারের বদলির আদেশ বাতিল করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদ এতথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে বলেন, জনগণের মধ্যে যেহেতু বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, তাই ওই আদেশটি (মঞ্জুরকে বদলি) বাতিল করা হয়েছে।

ফয়েজ আহম্মদ আরও বলেন, তিনি আপাতত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের যে পদে ছিলেন, সে পদে বহাল থাকবেন।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মঞ্জুর শাহরিয়ারকে সোমবারই বদলির আদেশ দিয়েছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

উপসচিব মঞ্জুর শাহরিয়ারকে আড়ংয়ে অভিযানের দিন খুলনায় বদলির আদেশ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যায়।

>>আরো পড়ুনঃ  নারী অফিস সহকারীর সঙ্গে ডিসির আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল

তবে সচিব ফয়েজ দাবি করেছেন, মঞ্জুর শাহরিয়ারকে বদলির আদেশের পেছনে আড়ংয়ে অভিযানের কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তাকে বদলির প্রক্রিয়া শুরু হয় গত ২৯ মে। অফিস আদেশটি জারি হয় ৩ জুন সোমবার সকালে। অর্থাৎ আড়ংয়ে অভিযানের আগেই সব কিছু হয়েছিল।

তারপরও জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় তা নিরসনে বদলির আদেশ বাতিল করা হয়েছে বলে জানান সচিব।

এর আগে পাঞ্জাবির দাম দ্বিগুণ দামে বিক্রি করায় রাজধানীর উত্তরায় আড়ং শোরুমকে সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

একই সঙ্গে এ প্রতিষ্ঠানটি সাময়িক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সোমবার রাজধানীর উত্তরায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে এ শাস্তি আরোপ করে অধিদফতরের মনিটরিং সেল।

>>আরো পড়ুনঃ  ভারতের ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প!

অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী পরিচালক মো. আবদুল জব্বার মণ্ডল।

মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার জানান, ২৫ মে এক ক্রেতা উত্তরা আড়ং থেকে একটি পাঞ্জাবি কেনেন ৭৩০ টাকায়। একই পাঞ্জাবি ৩১ মে কিনতে গেলে দাম রাখা হয় এক হাজার ৩১৫ টাকা। অধিদফতরে এমন অভিযোগ করেন এক ভোক্তা।

তিনি বলেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার উত্তরা আড়ংয়ে অভিযান চালিয়ে এর সত্যতা পায় অধিদফতর। আড়ং অভিনব কায়দায় বেশি দাম লিখে ভোক্তাদের ঠকাচ্ছে। ছয় দিনে একটি পাঞ্জাবির দাম বেড়েছে ৬০০ টাকা। যার কোনো কারণ জানাতে পারেনি আড়ং শোরুমের কর্মকর্তারা।

তিনি আরও জানান, আড়ং একটি ব্র্যান্ড। দেশি ভালো পণ্য বিক্রি করে বলে তাদের প্রতি ক্রেতাদের রয়েছে আস্থা ও সরল বিশ্বাস। এটি পুঁজি করে কৌশলে ক্রেতাদের ঠকাচ্ছে আড়ং। যা ভোক্তা আইনপরিপন্থী। এ অপরাধে তাদের সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি সাময়িক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

>>আরো পড়ুনঃ  বিয়ের গেটে টাকা নিয়ে বরের মাথা ফাটিয়ে দিলো কনেপক্ষ

‌‘দাম বাড়ানোর যৌক্তিক কারণ ব্যাখ্যা করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অধিদফতরে ডাকা হয়েছে। তারা যৌক্তিক কোনো ব্যাখ্যা দিতে না পারলে প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়া হবে।’

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ