রংপুরের তারাগঞ্জে বাসুর বানদায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মা মারা গেলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে একদিন বয়সের সন্তান। তারাগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের গিলাবাড়ী গ্রামের সাজু মিয়ার (৩০) স্ত্রী সাথী আক্তার (২৫) মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। শিশুটি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে আজ বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে একটি এ্যাম্বুলেন্স যোগে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দিকে আসছিলেন ওই দম্পতি। সাথে ছিলেন তার শাশুড়ি ও মামাতো ভাই রব্বানী রহমান।

সকাল পৌনে আটটায় রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের তারাগঞ্জের বাছুরবান্দা এলাকায় ঢাকা থেকে আসা ডিপজল পরিবহন এর সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান সাথী আক্তার ও তার মামাতো ভাই রব্বানী রহমান। গুরুতর আহত অবস্থায় মা ও স্বামী সাজুসহ চালককে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায় পুলিশ। এসআই সাইফুল ইসলাম আরও জানান, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এ্যাম্বুলেন্স চালক রুবেল মিয়া। এখনো হাসপাতলে আছে একদিনের ওই কন্যা শিশু। সাথে চিকিৎসাধীন আছেন কন্যা শিশুটির বাবা সাজু মিয়া ও নানি। হাসপাতলে শিশুটির পাশে এখন আছেন নিহত সাথী আক্তার এর মামাতো বোন রিক্তা। তিনি জানান, একদিনের এই বাচ্চাটি এখন শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে সে হয়তো বুঝবে না মা নামের সেই শব্দটি। শিশু বাচ্চাটিকে আমরা কিভাবে লালন পালন করব সেটাই এখন আমাদের দেখার বিষয়।