‘বিয়ে যদি ভুয়া হয় তাহলে ডিআইজি মিজান আমার সঙ্গে চার মাস কেন সংসার করল’

ডেস্ক রিপোর্টঃ মরিয়ম আক্তার ইকো ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে তাকে তুলে নিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে করাসহ পুরো ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা দেন। এ সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি একটি সংবাদমাধ্যমকে দেড় ঘণ্টার ভিডিও রেকর্ড সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। যা ওই সংবাদমাধ্যমের কাছে সংরক্ষিত আছে।

তিনি বলেন, ‘৩০(০৮)১৭নং মামলায় আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সত্য নয়। এ মামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। ১৪ জুলাই পান্থপথের বাসা থেকে আমাকে তুলে নিয়ে ১৭ জুলাই বিয়ে করেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মিজানুর রহমান। তবে বিয়েটা হয়েছিল খুব নোংরাভাবে। ৫০ লাখ টাকার কাবিনে বিয়ের উকিল হিসেবে ছিলেন তার ড্রাইভার গিয়াস উদ্দিন এবং সাক্ষী রাখা হয় জাহাঙ্গীর নামে এক কনস্টেবলকে। জাহাঙ্গীর সম্ভবত তার বডিগার্ড বা গৃহকর্মী। বিয়ের আগে বিভিন্ন সময় আমার স্বামী (অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মিজান) বলত, তার প্রথম স্ত্রী খুব অসুস্থ। সে দেশে থাকে না, কানাডায় থাকে। তার সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। এসব বলে আমাকে দুর্বল করার চেষ্টা করত।’

নিজের পরিচয় জানতে চাইলে ইকো বলেন, ‘আমি একটি ব্যাংকে চাকরি করতাম। নিজের সমস্যার কারণে চাকরিটা ছেড়ে দিই। কিছুদিন একটি বেসরকারি চ্যানেলেও ট্রাই করেছি। পাশাপাশি আবারও প্রাইভেট কোনো ব্যাংকে যোগদান করতে পারি কিনা চেষ্টা করছিলাম।’ অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মিজানুর রহমানের সঙ্গে কিভাবে পরিচয় জানতে চাইলে ইকো বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় থাকা আমার এক বান্ধবীর মাধ্যমে জব প্রসেসকারী একটি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা চাই। ওই মেয়েবন্ধু বলেছিল, গুলশান নিকুঞ্জে একজন আপা আছে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমার একটা চাকরির ব্যবস্থা হতে পারে। এরপর একদিন নিকুঞ্জের ওই আপাকে ফোন করে তার সঙ্গে দেখা করি। চাকরির বিষয়ে কথাবার্তা বলার একপর্যায়ে ওই আপা বলেন, আমি আপনাকে একজনের সঙ্গে পরিচয় করে দিচ্ছি, তার জ্যাক অনেক হাই। এ কথা বলেই ওই আপা ডিআইজি মিজানের নম্বরে কথা বলে আমাকে ধরিয়ে দেন। তখন তিনি (মিজান) বলেন, আপনি এখান (নিকুঞ্জ) থেকে চলে যান। আমিই আপনাকে ফোন করব। এরপর তেজগাঁও চ্যানেল আই অফিসের কাছাকাছি যাওয়া মাত্র ডিআইজি মিজান আমাকে ভাইবারে ভিডিও কল করেন। প্রথম কথার পর তার ভিডিও কলে আমি বিব্রত হই।’

এ বিষয়ে মরিয়ম বলেন, ‘এই কথা বলার ২০-২৫ দিন পর তিনি (ডিআইজি মিজান) হয়তো সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে আমাকে ফোন করে তার ব্যক্তিগত কিছু বিষয় বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন।’ ব্যক্তিগত বলতে কোন ধরনের কথা বলার আগ্রহ দেখান জানতে চাইলে ইকো বলেন, ‘বলতেন তিনি তার লাইফ নিয়ে খুব ঝামেলায় আছেন। তার এখানে কেউ থাকে না। সহধর্মিণী বাইরে থাকে। এসব আর কি…। তো আমি তাকে বললাম, তাহলে পরিবারের সঙ্গে স্যাটেল্ড হয়ে যান। ওই সময় আমি তো জানতামই না যে তিনি পুলিশে কোন পর্যায়ে আছেন। আমার জানার বিষয়ও না। তিনি হয়তো সেকেন্ড ম্যারেজের চিন্তা করছিলেন। আর এসব বিষয় নিয়ে আমার তেমন আগ্রহও ছিল না। কারণ আমার তো তখন বিয়েও হয়নি। এসব কারণে আমি উনাকে এড়িয়ে চলেছি।

এরপর অনেকদিন কথাবার্তাও হয়নি। এর মধ্যে কানাডা প্রবাসী এক ভদ্রলোকের সঙ্গে আমার পারিবারিকভাবে বিয়ের কথাবার্তা চলছিল। জুলাই মাসের ৪-৫ তারিখে ছেলের পরিবারের সদস্যরা আমাকে দেখেও যায়। ছেলে যেহেতু দেশে ছিল না তাই দুই পরিবারের সদস্যরা বললেন, ছেলেমেয়ে দু’জনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলুক। তারপর দেখা যাক কী হয়। এ অবস্থার মধ্যে পারিবারিকভাবে দেখা সেই ছেলে আমাকে ফোন করত।’ ইকো বলেন, ‘বাই দিস টাইম আমার নম্বর তিনি (ডিআইজি মিজান) যে ট্র্যাক করছেন তা তো আমার জানা ছিল না। একটা পর্যায়ে এসে আমার সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগও নাই। অথচ মোবাইল ট্র্যাক তিনি কনটিনিউ করছেন। আমি যার সঙ্গে কথা বলতাম তার নম্বরই ট্র্যাক করেছেন তিনি। ফোন ট্র্যাক করে আমার বাসা, আত্মীয় স্বজন কে কোথায় আছেন সব বের করে ফেলেন। আমি কোন বাড়িতে থাকি, ফ্ল্যাট নম্বর কত, গার্ডের নাম কি- সব বলে দিচ্ছেন।’

এ প্রসঙ্গে ইকো বলেন, ‘আমাকে নিয়ে তার কোনো উদ্দেশ্য ছিল কিনা ওই সময় পর্যন্ত আমি জানতাম না। কিন্তু আমি তার ফোন রেসপনস না করায় এক ধরনের ক্ষোভ তৈরি হয়। পরে বুঝতে পারি যে ডিআইজি মিজানকে কেন ইগনোর করা হলো, ইত্যাদি।’ মরিয়ম বলেন, ‘আমি তখনও জানতাম না তিনি ডিআইজি (অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার)। আমি ডিআইজি মিনিংটাও বুঝতাম না।’ এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে মরিয়ম বলেন, ‘এ অবস্থা চলাকালীন মিজানের এক বন্ধু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন গাজী শামিম হাসান আমাকে একদিন ফোন করে বলেন, মিজান আপনাকে পছন্দ করে।’

কিভাবে ডিআইজি মিজান আপনাকে তুলে নিয়ে যায় জানতে চাইলে ইকো বলেন, ‘ওইদিন ১৪ জুলাই, সম্ভবত শুক্রবার ছিল। পান্থপথে আমার বাসার সামনে এসে ডিআইজি মিজান ফোন করে বলেন, আমি আপনার বাসার সামনে। আমি অনেক বেয়াদবি করে ফেলেছি। নিচে নামেন, আমি আপনার কাছে সরি বলতে চাই। আমি বললাম, না না সরি বলার কী আছে। আপনি চলে যান। আমার বাসায় কেউ নেই, আমি বাহির হতে পারব না।’

ডিআইজি মিজানুর রহমান বেয়াদবি বললেন কেন জানতে চাইলে ইকো বলেন, ‘তিনি আমাকে অনেক ডিস্টার্ব করেছেন। একপর্যায়ে আমি তার একটি নম্বর ব্লক করে দিই। তার অনেকগুলো নম্বর। এরপর আরেকটি নম্বর দিয়ে বাসার নিচ থেকে কথা বলেন। এই কথা বলার একপর্যায়ে মিজান বলেন, আমি শুনেছি আপনার বিয়ের কথাবার্তা চলছে। এ কথা শুনে আমি অবাক। এসব কথা আপনি কিভাবে জানেন- প্রশ্ন করতেই মিজান বলেন, আরে ম্যাডাম আমি সব জানি। আপনি কী দিয়ে বাসায় ভাত খাচ্ছেন, কী করছেন, কে কোথায় থাকেন সব জানি।’ ইকো বলেন, ‘ওইদিন আম্মু ছিলেন বগুড়ায়। বাসায় কাজের মেয়ে, ছোট ভাই ও ড্রাইভার ছাড়া কেউ নেই। আমার আব্বু নেই। আম্মু বগুড়ায় ছিলেন মিজান তাও জানতেন। আমার বড় বোনের নামটাও তিনি জানতেন। একপর্যায়ে আমি তাকে বললাম, ঠিক আছে এ নিয়ে কথা বলব না। আমি আপনাকে মাফ করে দিছি, আপনি চলে যান।

এরপর মিজান বলেন, না আপনি নিচে নেমে আসেন, আমি সামনা সামনি মাফ চাইব। এরপর আমি বললাম, এটা আপনার বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে গেল না? তারপর তিনি বললেন, আপনি যদি না আসেন আমি কিন্তু আপনার বাসায় উঠে যাব। এরপর আমি রাগ করেই বলি, আপনি একজন গভর্নমেন্ট অফিসার। আপনার কোনো কাজ নেই? সরকার কি আপনাকে ওএসডি করে রেখেছে? শুধু শুধু মানুষের নম্বর ট্র্যাক করে ডিস্টার্ব করে বেড়ান? আপনার কোনো ব্যক্তিত্ব নাই? আমি বকাও দিছি। একপর্যায়ে আমি স্কয়ার ক্যাফেটেরিয়ায় তাকে বসতে বলি। তখন তিনি বলেন, আমি তো একজন পুলিশ ও পাবলিক ফিগার তাই ক্যাফেটেরিয়ায় বসতে পারি না। এরপর বলেন, আপনি আমাকে বিশ্বাস করেন, ভরসা রাখেন। আপনি এসে গাড়িতে বসে দুটি কথা শোনেন, তারপর চলে যাবেন। এরপর আমি বোকামি করে বাসার নিচে নেমে এসে গাড়িতে উঠি। দু-একটি কথা বলেই গাড়ির দরজা লক করে ফুল মিউজিক দিয়ে গাড়ি চালিয়ে সোজা বসুন্ধরার ৩০০ ফুট সড়কের পাশে পূর্বাচলে নিয়ে আসেন। গাড়িটি তিনি নিজেই চালাচ্ছিলেন। রাস্তায় যেখানে জ্যাম দেখেছেন সেখানেই রোড ক্লিয়ার রাখার জন্য ওয়াকিটকি দিয়ে ট্রাফিকদের বলছিলেন।’

ইকো বলেন, ‘গাড়িতে বসে অনেক চিল্লাচিল্লি করি। এরপর পূর্বাচলে যাওয়ার পর আমি রাগ হয়ে তাকে কিছু গালিগালাজ করেছি। কারণ সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে উইদাউট পারমিশন এভাবে ফিল্মি স্টাইলে আমাকে তুলে আনতে পারেন কিনা, আপনিই বলেন?’ এরপর ইকো বলেন, ‘এসব কথা বলেছি। বারবার বলি আমাকে বাসায় নিয়ে চলেন। একপর্যায়ে তার ব্যক্তিত্বে আঘাত দিয়ে কিছু কথা বলা হলে তিনি দিশেহারা হয়ে আমাকে মারতে থাকেন।

একপর্যায়ে এতটাই ক্রেজি হয়েছিলেন যে আর্মস মাথায় ঠেকিয়ে গুলি করার হুমকি দিয়ে বলেন, গুলি করে মেরে ফেলব। তখন আমিও বলি, ওকে শুট মি।’ এ পর্যায়ে ইকো গণমাধ্যমকর্মীকে বলেন, ‘লোকটা আমার বাসা থেকে আমাকে তুলে নিয়ে আসছে, এটা কোন ধরনের তামাশা? এটা তো প্রতারণার শামিল। গাড়িতে বসে কৌশলে আমার ফোনটাও নিজের কব্জায় নিয়ে নেন তিনি। একপর্যায়ে আমাকে সান্তনা দেয়ারও চেষ্টা করেন। অভিনয়ও করেন। একই সময় একটি বেসরকারি টিভির সংবাদ পাঠিকা তার নাম দেখেছি… ডিআইজি মিজানকে ফোন করেন। ওই সময় মোবাইলটি এনে ওই মহিলার সঙ্গে কথা বলে সাহায্য চাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এরপরই তিনি আমার ওপর শারীরিক নির্যাতন আরও বাড়িয়ে দেন। একপর্যায়ে ডিআইজি মিজানের হাতের আঘাতে আমার চোখ-মুখ ফুলে যায়। নাকফুল ভেঙে রক্ত পড়তে থাকে। মার খেয়ে আমি শক্তিহীন হয়ে যাই। তিনি নিজেও কন্ট্রোলের বাইরে চলে যান। ভয়ে আমিও আর কোনো কথা বলতে সাহস করিনি। এ অবস্থায় তিনি দু’জন লোককে ফোন করেন। তার মধ্যে একজন হচ্ছেন আমার বিয়ের উকিল বাপ ডিআইজি মিজানের গাড়িচালক গিয়াস উদ্দিন এবং অপরজন হচ্ছেন তার বাসার গৃহকর্মী কনস্টেবল জাহাঙ্গীর। তাদের দু’জনকে বারিধারার একটি স্থানে আসতে বলেন। এ সময় গিয়াস চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। গিয়াস বলছিলেন স্যার আমার জর। এরপর মিজান বলেন, তোমার জর থাক আর যাই থাক তোমাকে আসতেই হবে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে, তোমাকে আসতেই হবে। জাহাঙ্গীরকে নিয়ে আস। ওই অবস্থায়ই একজন একটি মোটরসাইকেলে গিয়াসকে নামিয়ে দিয়ে যায়। ডিআইজি মিজান বারিধারায় গিয়ে গিয়াসকে গাড়ি চালাতে দিয়ে পেছনের সিটে আসেন। একই সময় জাহাঙ্গীরও সেখানে উপস্থিত হয়। ওদের দু’জনকে দেখে আমার একটু সাহস হল। তাদের সামনেই বললাম, আমাকে ছেড়ে দেন। এরপর উত্তেজিত হয়ে ওড়না দিয়ে আমার মুখ বেঁধে ফেলেন ডিআইজি মিজান। তাদের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা না পেয়ে আমার মনে হয়েছে পুরোটাই একটা নেটওয়ার্ক ছিল। সেখান থেকে সরাসরি বেইলি রোডের বেইলি রিজের অ্যাপার্টমেন্টের (লিফটের ৪-এ এম-৪) বাসায় আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা। আমি নিজেই ওড়নার বাঁধন খুলে জিজ্ঞেস করলাম আমাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? ডিআইজি মিজান বললেন, কোনো সমস্যা নাই এটা আমার বাসা। খালাম্মা (ইকোর মা) এলে তুমি চলে যাবে। ভয়ে আমি আর মাথা গরম করিনি। বাসায় গিয়ে বুঝলাম এটা পূর্বপরিকল্পিত। তখন আমার মধ্যে এক ধরনের ভয় এলো। আর বারবার মনে হচ্ছিল ডিআইজি মিজান নিজে সেফ হওয়ার জন্য উল্টাপাল্টা কিছু একটা করে ফেলতে পারে। তখন চিৎকার শুরু করলাম। কিন্তু আমাকে কেউ সাহায্য করতে আসেনি। আমি প্রচণ্ড সিনক্রিয়েট করলাম। যাতে বিরক্ত হয়ে আমাকে বের করে দেয়। তখন গিয়াস আমার ডান হাত ধরে আছে, জাহাঙ্গীর আমার বাম হাত ধরে রাখে। এ অবস্থায় উনি (ডিআইজি মিজান) উড়ে এসে আমাকে মারতেছেন। আমি বাস্টার্ড বলে গালি দেয়ায় তিনি আমাকে এভাবে মারেন। শারীরিক নির্যাতনে আমি অনেকটা অজ্ঞানের মতো হয়ে যাই। তাদেরকে আমি বললাম, একটা মেয়েকে আপনারা তিনজনে মিলে মারতেছেন, লজ্জা করে না আপনাদের? মাইর খেয়ে মনে হয়েছে অনেক ক্ষোভ ছিল আমার ওপর। বিয়ের পরও অনেক মার খেয়েছি। এখনও জানতে ইচ্ছে করে, কেন এত ক্ষোভ ছিল আমার ওপর। রাত ১২টার দিকে ডিআইজি মিজানের বন্ধু বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ডা. গাজী শামিম হাসান ওই বাসায় হাজির হন।

তিনি আমাকে বোঝাতে শুরু করেন। বলেন, আমার দোস্ত অনেক রাগী। আপনার সঙ্গে মিসবিহেভ করেছে। সে আসলে আপনাকে অনেক লাভ করে। আমি বললাম, ঠিক আছে মানুষ মানুষকে লাভ করতেই পারে। তার মানে এই নয় যে জোর করে ভালোবাসা আদায় করতে হবে। ভালোবাসার দরজা থাকবে আলাদা। এটা কি করা হচ্ছে। আপনার ক্ষমতা আছে বলেই আপনি তুলে নিয়ে আসবেন? বাই দিস টাইম তিনি (অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মিজান) স্ট্রোক করার মতো একটা নাটক করলেন। তিনি পড়ে গেলেন।

এরপর গাজী শামিম হাসান কে বললাম, ঠিক আছে উনি আমাকে লাভ করেন। উনাকে আম্মার সঙ্গে কথা বলতে বলেন। আমাকে বাসায় দিয়ে আসেন। আমার সঙ্গে যা করা হয়েছে তার কিছুই বলব না। এর মধ্যে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। তখন আমাকে সুস্থ করার কথা বলে ওষুধ খাওয়ানো হয়। এরপর আর আমার সেন্স ছিল না। পরদিন ১২টা বা ১টার দিকে সেন্স আসার পর দেখতে পাই আমি তার (ডিআইজি মিজান) বেডরুমে। আমার যে সালোয়ার-কামিজ পরা ছিল সেটা নেই। তার স্লিপিং ড্রেস পরা। এটা দেখার পর আবারও আমার মাথা গরম হয়ে যায়। তখন বাসায় গিয়াস ও জাহাঙ্গীরকে ডেকে বললাম, এই তোমাদের স্যার কোথায়? আমার ড্রেস কে চেঞ্জ করেছে? ওরা ফোন দিয়ে তাকে জানায়। তিনি হয়তো ডিএমপিতেই ছিলেন। ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই চলে এসে আমাকে বলতেছেন, বি কুল। আমিই ড্রেস চেঞ্জ করেছি। বিকজ তোমার অবস্থা ভালো ছিল না। রেস্ট নেয়ার জন্য আমি চেঞ্জ করেছি।’

এবার গণমাধ্যমকর্মীর কাছে প্রশ্ন রেখে জানতে চান- ‘এখন আপনি চিন্তা করেন, এটা তিনি করতে পারেন কি না? এরপর তো একটা মানুষ আর স্বাভাবিক থাকবে না। আই ওয়েন্ট টু গো ফর সুইসাইড। আমি আর বাঁচতে চাই না। বাসায় যাওয়ারও দরকার নাই। মারা গেলেই বেটার। আমি সুইসাইড করার জন্য গ্যাসের চুলায় নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এ সময় ওড়না জ্বলে যায়। প্রচণ্ড চিল্লাচিল্লি করলাম। কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে যে, ‘সামথিং হ্যাপেনড দেট নাইট…। বাসায় আসার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আমার কাছে মাফও চান। বলেন আমি ভুল করে ফেলেছি। আমি তোমার আম্মার সঙ্গে কথা বলব। তো আমি বললাম আমার কতটুকু ক্ষমতা আছে আমি আপনাকে মাফ করব। ক্ষমতাটাও তো আমার লিমিটের মধ্যে থাকতে হবে। আম্মুকে ট্যাক্টফুলি তিনি ডাকেন। ক্ষমা চান। আবার আম্মুকে হুমকি দিয়ে বলেন যে, আপনি যদি এটা বাইরে বলাবলি করেন তাহলে অনেক খারাপ হবে। আপনার নেত্রিত্বও চুকিয়ে দেব। ঢাকা শহরে একটা এসপি চাইলেই অনেক কিছু করতে পারে। আর আমি তো ডিআইজি মিজান, আমি অনেক কিছু করতে পারি।

হুমকির ভয়ে আম্মা কোনো কিছু বলতেও পারছিলেন না। ১৫ ও ১৬ জুলাইও আমি সেখানে। ১৬ জুলাই আমি কৌশলে আম্মুর সঙ্গে কথা বলার কথা বলে খালুকে (কৃষক লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা) ফোন করি। তখন একটি গোয়েন্দা সংস্থা থেকে ওর কাছে ফোন আসে। খালামণিও (একজন সংসদ সদস্য) ফোন করেন। এরপর তিনি একটু ভয় পান। এরপর তাৎক্ষণিক তিনি আম্মুকে ফোন করে বলেন ঠিক আছে, খালাম্মা আমি ওকে নিয়ে আসছি। আধা ঘণ্টা পর আবার মত পরিবর্তন করে বলেন- আসলে খালাম্মা ওখানে (ইকোর বাসা) বসে কথাবার্তা বলাটা ঠিক হবে না। আমার অনেক দোষ আছে আপনি আমার ফ্ল্যাটে আসেন, আমি গাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি। তখন আম্মু বলেন, না আমার গাড়ি আছে তোমার গাড়ি পাঠাতে হবে না। পান্থপথের বাসা থেকে তার গাড়ি ফেরত আসে। তার আরেক ড্রাইভার জিহাদ ওই গাড়ি নিয়ে গিয়েছিল। পরে আমাদের গাড়ি নিয়েই আম্মু আসেন। এর আগে তিনি গেটে বলে রাখেন, সরকারি কর্মকর্তার বাসায় কেউ যেতে হলে মোবাইল নিয়ে যাওয়া যায় না। সেভাবেই গেটের সিকিউরিটি আম্মুকে বলে ফোন রেখে যাওয়ার জন্য।

তিনিও ফোন রেখে বাসায় ঢোকেন। ওইখানে তিনি শাড়ি, নাকফুল, চুড়ি, গয়না রেডি করে রাখেন। এ বিষয়টি আমিও জানি না। আম্মু আসার পর তাৎক্ষণিক তার ব্যবহার পরিবর্তন করে বলেন- নো আপনার মেয়ে এখান থেকে যেতে পারবে না। বিয়ে হবে।

আপনার মেয়েকে হয় সেটেল্ড করে যেতে হবে, না হয় আপনার মেয়ের লাশ বের হবে। এ কথা শুনে আম্মু হতবাক। আম্মু বললেন, এটা কি? এখানে বিয়ে শাদির প্রশ্ন আসতেছে কেন? আমার জানা মতে তোমার যে বয়স স্ত্রী-সন্তান থাকার কথা। তারা কোথায়? তখন ডিআইজি মিজান বলেন, না তারা কেউ নাই। তখন আম্মু আবার বলেন, তোমার স্ত্রী-সন্তান নাই ভালো কথা, কিন্তু এভাবে কি তুমি একটা মেয়েকে তুলে আনতে পার? এ কথার জবাবে ডিআইজি মিজান বলেন, হ্যাঁ আমি পারি। আপনারা বিষয়টাকে না প্যাঁচিয়ে সমস্যাটা সমাধান করেন।

এ কথা বলে তার আর্মসটা দম করে টেবিলের ওপর রাখেন। তখন আমার মধ্যে ভয় লাগে। ভাবছিলাম, এখন মা-মেয়ে দু’জনই তো তার কৌশলে ফ্ল্যাটে বন্দি হয়ে গেছি। এখন তাকে সান্তনা দেয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই বা বেরও হতে পারব না। তখন আমি বললাম, ওকে হোয়াট ডু ইউ ওয়ান্ট? তিনি বললেন, চল বিয়ে করে ফেলি। এবার যাতে তিনি বিয়েতে রাজি না হন সে জন্য আমিই বললাম, বিয়ে করতে চান তো? কাবিন দেবেন এক কোটি টাকা। আমার ধারণা ছিল সরকারি কর্মকর্তা এক কোটি টাকা দিয়ে বিয়ে করতে চাইবেন না।

তিনি বললেন, না এক কোটি টাকা নয় ৫০ লাখ টাকা কাবিন। এর বাইরে একটা কথা বললে দু’জনের লাশ ফেলে দেব। এ কথা বলে আবার দাঁড়িয়ে যান। এবার আমি ভয় পাই এ কারণে যে, হয়তো এখন আম্মুসহ আমাকে হেনস্তা করবে। ওইদিন আমাদের লাইফটাই দরকষাকষির মধ্যে চলে যায়। দরজা বন্ধ, নিচে সব জায়গায় মেকানিজম করা। সমস্ত ফোন কন্টাক্ট বন্ধ। এ অবস্থায় ডিআইজি মিজানের খাচায় বন্দি হয়ে আম্মুকে আমি সেভ করতে চেয়েছি, আম্মু আমাকে সেভ করতে চেয়েছেন। মগবাজার কাজী অফিসের কাজী ডেকে বিয়ে পড়ানো হয়।’ বিয়ে পড়িয়েছেন কে জানতে চাইলে ইকো বলেন, ‘দুজন কাজী ছিল। একজনের নাম নূর হোসেন বলে শুনেছি। বিয়ের কাবিনের কপি ওই সময় আমাদের দেয়া হয়নি। কাবিনের একটা রসিদ আমাদের হাতে দেয়া হয়। এইভাবেই বিয়ে সম্পন্ন হয়।’

ভুয়া কাবিনের অভিযোগে কাজী একটি মামলা করেছে, জেনেছেন কিনা জানতে চাইলে ইকো বলেন, ‘সেটা আদালতেই ফয়সালা হবে। আমরা আইজিআরের (ইন্সপেক্টর জেনারেল অব রেজিস্ট্রার) কাছে আবেদন করেছি। এখন বলেন, কাজী অফিসে যদি ভুয়া রসিদ রাখা হয় সেটা কি আমার দোষ? ডকুমেন্ট যাই হোক। বিয়ে কিন্তু অরিজিনাল। বিয়ে কিন্তু ফেক না। এখন আসেন ফেক বিয়েও যদি হয় তাহলে মিজান কেন আমার সঙ্গে ৪ মাস সংসার করল? লালমাটিয়ায় ৫০ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে আলাদা ফ্ল্যাটে রাখল?’ চার মাস সংসারের পর আপনাদের মধ্যে এ অবস্থা কেন জানতে চাইলে ইকো একটি নিউজ চ্যানেল ও চ্যানেলটির একজন উপস্থাপকের নাম ধরে বলেন, ‘মূলত ওর সঙ্গে ডিআইজি মিজানের পরকীয়া গড়ে ওঠে। সি ইজ এ স্টুপিড লেডি। তার বাচ্চাও আছে, হাজবেন্ডও আছে। সে যখন আমাদের ইন্টারনাল লাইফে ঝামেলা করার চেষ্টা করল তখনই আমি বিষয়টিতে রিঅ্যাক্ট করি।

আমার বিয়ের উকিল বাপ ড্রাইভার গিয়াস আমাকে বলেছে, আমার স্বামী নাকি তার বাসায়ও খরচ পাঠায়। গিয়াস তার বাসায়ও ডিউটি করে। এগুলো যখন শুনলাম তখন আমার স্বামীকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমার কানে এসব কেন আসছে। এসব কথা জিজ্ঞাসা করলেই আমাকে মারা হতো। একবার লোয়ার এবডোমিনে (তলপেট) লাথি মারে। এতে আমি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ি। তার নিয়ন্ত্রিত একটি হাসপাতালে ট্রিটমেন্ট করান। এই নির্যাতনের পর ওই স্টুপিড লেডি আমাকে মেসেজ পাঠাতো- তোকে এত মারে তাহলে চলে জাস না কেন?’ নির্যাতনের কথা বলার সময় ইকোর চোখ থেকে অঝোর ধারায় পানি পড়তে দেখা যায়।

নির্যাতনের মুখে কয়েকবার ডিআইজি মিজানকে ইকো বলেন, ‘তুমি স্বাভাবিকভাবে আমার সঙ্গে থাক, না হয় আমাকে ছেড়ে দাও। কিন্তু তিনি ছাড়তে রাজি নন। তিনি আমার কাছ থেকে লিখিত চান আমি যাতে তার বিরুদ্ধে কখনও কোনো অভিযোগ না করি। চার মাস ধরে একটা লেডি আমার হাজবেন্ডকে দিয়ে আমাকে টর্চার করিয়েছে। তিনি বলেন, ‘ওই স্টুপিড লেডির সঙ্গে আমার সমস্ত কনভারসেশন স্ক্রিন শর্ট দিয়ে ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করে প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু তাদের পরকীয়া বন্ধ করা যায়নি।’ সূত্র: যুগান্তর।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ