জে.এইচ বাবুঃ কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের কোরপাই টু আবিদপুর ৫ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে মিথলমা-আবিদপুরের মাঝামাঝি এলাকায় একটি ব্রিজ ও মনঘাটা এলাকায় একটি কালভার্ট নির্মাণের পর প্রায় ২ বছর ধরে মাঝখানে এর ঢালাই খসে পড়েছে। এতে ওই সড়কে চলাচলরত হাজার হাজার মানুষ, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, হাটবাজারগামী ব্যবসায়ী ও যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। নির্মাণের সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় অল্প সময়ের মধ্যে ঢালাই খসে পড়ে এলাকার জনসাধারণের।

সরেজমিনে দেখা যায়, মোকাম ইউনিয়নের কোরপাই থেকে আবিদপুর পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়কটি অতি গুরত্বপূর্ণ সড়ক। এ সড়ক দিয়ে দেবীদ্বার, মুরাদনগরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে দেশের বৃহত্তম সবজি বাজার নিমসারে এলাকার কৃষককে তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে প্রতিদিন বিভিন্ন যানবাহনে বাজারে আসতে আসতে হয়। এ ছাড়া ওই এলাকার মানুষ কুমিল্লা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের জন্য এ সড়ক ব্যবহার করেন। আবিদপুরে রয়েছে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা। অন্যদিকে নিমসার কোরপাই এলাকায় রয়েছে ঐতিহ্যবাহী নিমসার জুনাব আলী কলেজ, মহিলা উচ্চ বিদ্যালয়, নিমসার উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের প্রতিনিয়ত এ সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এলাকার সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেন, এ ব্রিজটির ওপর দিয়ে বিভিন্ন যানবাহনে চলাচলের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। একই ভাবে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও দুর্ঘটনার শিকার হয়। নিমসারসহ বিভিন্ন বাজারে কৃষিপণ্য নিয়ে যাতায়াতের সময় কৃষকরা ব্রিজটি পারাপারের সময় অনেক যানবাহন দুর্ঘটনায় পতিত হয়। স্থানীয়রা আরও জানান, রাতে এ সড়কটি দিয়ে চলাচলের সময় সাধারণ মানুষ ও যানবাহনকে ব্যাপক ঝুঁকি নিতে হয়। তাছাড়া এ সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বেশিরভাগ মানুষকে বহু দূর ঘুরে বিকল্প রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়।

>>আরো পড়ুনঃ  কুমিল্লার মহাসড়কে অটোরিকশার অবাধ চলাচল, বাড়ছে দুর্ঘটনা

এ ব্যপারে বুড়িচং উপজেলা প্রকৌশলী জিহান আল তুহিন জানান, এই দুটি ব্রিজ দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙ্গা অবস্থায় আছে। এল.জি.ই.ডির তালিকায় এ দুটি ব্রিজের কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে বুড়িচং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মোস্তফা মাইদুল মোর্শেদ মুরাদ বলেন, এ ব্রিজটির বিষয়ে আমি খোঁজখবর নিয়েছি। ব্রিজটি আমাদের প্রকল্পের মধ্যে নেই।