জে.এইচ বাবুঃ কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা সদরের সরকারী হাসপাতালটির বেহাল দশা। হাসপাতালে প্রবেশ মুখসহ ড্রেন গুলিতে ময়লা আবর্জনার স্তুপ, নাম মাত্র পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। নেই ডেঙ্গু পরীক্ষার যন্ত্রপাতি, এতে করে ঝুকির মূখে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীরা।

সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, ৩১ শয্যা বিশিষ্ট সরকারী হাসপাতালটির প্রবেশ মূখে ফেলে রাখা হয়েছে ময়লা-আবর্জনা। বর্হি-বিভাগের টিকেট কাউন্টারের পাশের ড্রেনগুলিতে জমে আছে ময়লা পানি। পানিতে ভেসে আছে বিভিন্ন কিট-পতঙ্গ। ড্রেনের পাশেই দাড়িয়ে টিকেট সংগ্রহ করছে সেবা নিতে আসা রোগীরা। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত প্রায় ১শ’ রোগী এই ড্রেনের পাশে দাড়িয়ে টিকেট সংগ্রহ করছে। মূল ভবনের পিছনের অংশে দেখা যায় পয়নিস্কাশনের পাইপ লাইন ভেঙ্গে টয়লেটের ময়লা ছড়িয়ে পরেছে ড্রেনের মধ্যে। আর এই ময়লায় মধ্যে বসে আছে মশা-মাছিসহ বিভিন্ন কিট-পতঙ্গ। ড্রেনের ময়লায় বসা মশা-মাছি উড়ে গিয়ে কামড়াছে বেডে থাকা রোগীদের। এতে করে ছড়িয়ে পরছে নানহ রোগ। স্বাস্থ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের পিছনে গিয়ে দেখা যায়, ময়লার বিশাল স্তুপ। জরুরী বিভাগ, অপারেশন থিয়েটার ও বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত সুই, গজ, ব্যান্ডেজ, গ্লাভস্, ইঞ্জেকশনের কৌটাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উন্মুক্ত স্থানে ফেলে রাখা হয়েছে। এম্বুলেন্স রাখার গ্যারেজের পাশে পরে আছে পরিত্যাক্ত টায়ার, ঐ টায়ারে মধ্যে জমে আছে বৃষ্টির পানি। তাছাড়া হাসপাতালটির মঠে বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্তের মধ্যে বৃষ্টির পানি জমে আছে দীর্ঘদিন ধরে। হাসপাতাল চত্বরে একটি ফুলের বাগান আছে, ওই বাগান পরিচর্যার জন্য একজন মালি নিয়োগ দেয়া থাকলেও বছরের পর বছর ওই বাগানে ফুল গাছ লাগানো, কিংবা পরিচর্যায় তাঁর দেখা মেলেনি মালির। মাস শেষে বেতন উঠিয়ে নিয়ে যায় সে। ফলে ফুলের বাগানেও জমে আছে ময়লা আবর্জনা। এসকল অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সেবা নিতে আসা হাজারো লোকজন স্বাস্থ ঝুকিতে আছে বলে জানা যায়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহের মধ্যে ৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিতে আসছে। তাদের সবাই ঢাকা থেকে আগত। এছাড়া প্রতিদিন অনেক লোক ডেঙ্গু আছে কিনা পরীক্ষার জন্য আসে। হসপাতালে ডেঙ্গুর রোগ নির্ণয়ের কিট, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি না থাকায় পরীক্ষা করা যাচ্ছেনা রোগীদের। বুড়িচং সদরে একটি মাত্র প্রাইভেট ক্লিনিকে ডেঙ্গু রোগ পরীক্ষা করানো হয়।

ডেঙ্গু রোগ পরীক্ষা করাতে আসা জগতপুর গ্রামের মফিজ মিয়া সহ অন্তত ৫ জন রোগী জানান, ৪ দিন ধরে আমার ছেলের জ্বর থাকায় আজ হাসপাতালে এসেছি ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর জন্য। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে ডেঙ্গু পরীক্ষার যন্ত্রপাতি নেই, তাই বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে যাচ্ছি। হাসপাতাল গেইটে অবস্থিত হ্যাপি মেডিকো ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারি ইমতিয়াজ আহম্মদ ইমন জানান, গত ৩ দিনে আমরা প্রায় ১৫ জন রোগীর ডেঙ্গু পরীক্ষা করেছি।

উপজেলা স্বাস্থ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রতœা দাস বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিস্কার-পরিচ্ছনতা কর্মী নেই। ৫টি পদের মধ্যে ৩ টি খালি, ১জন পুরুষ, ১ জন মহিলা পরিচ্ছন্ন কর্মী আছে। তাঁরা হাসপাতালের ভিতরে ও বাহিরে উভয় স্থানে পরিস্কার করতে হয়। তাছাড়া হাসপাতাল গেইটে অবস্থিত প্রাইভেট ক্লিনিক ও পার্শ্ববর্তী বাসা বাড়ী থেকে থেকে ময়লা আবর্জনা হাসপাতালের মধ্যে ফেলা হয়। পনি-নিস্কাশনের জায়গা না থাকায় ড্রেনের মধ্যে পানি জমে থাকে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ড্রেন ও ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করা হবে বলে তিনি জানান। #
ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু পরীক্ষার যন্ত্রপাতি দেয়া হচ্ছেনা, তাই আমরা ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ের জন্য আসা রোগীদের কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে রেফার্ড করি।