আশিকুর রহমানঃ কুমিল্লার ব্রা‏হ্মণপাড়ার সিমা আক্তারকে কেউ খুন করে লাশ গুম করেনি। গত মঙ্গলবার রাতে তাকে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ। অথচয় সেই মিথ্যা মামলা করে হয়রানী করায় স্বামী সাইফুল গলায় ফাসঁ দিয়ে আত্নহত্যা করেছেন। বুধবার দুপুরে কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনালে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন সিমা আক্তার।

থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রা‏হ্মণপাড়া উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের নাল্লা গ্রামের মোরশেদ মিয়ার মেয়ে সিমা আক্তারের সাথে চার বছর আগে একই উপজেলার ব্রা‏হ্মণপাড়া সদরেরর আটকিল্লাপাড়ার সহিদুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলে আসছে। গত মে মাসের ১৮ তারিখ থেকে সিমা আক্তারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এ নিয়ে সাইফুলকে অনেক চাপ দিচ্ছেলেন সিমা আক্তারের পরিবারের লোকজন। পরে ২৩ মে কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনালে সিমা আক্তারের মা হেলেনা বেগম বাদী হয়ে তার মেয়েকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন চালিয়ে খুন করে লাশ ঘুমের একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলার পর থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন সাইফুল।

ঘটনাটি মিমাংশার জন্য সাইফুল ও সিমা আক্তারের পরিবারের লোকজন একধাধিক বৈঠকও করেছিলেন। একটি বৈঠকে সাইফুলকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই টাকা দিতে পারেনি। এক দিকে স্ত্রী উধাও। অন্য দিকে হত্যা ও ঘুমের মামলা। আবার টাকা দিতে হবে দুই লাখ। সেই চিন্তা করতে করতে গত ২১ জুলাই সাইফুল গলায় ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যা করেন। এ নিয়ে সাইফুলের বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছিল।

পরে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে সিমা আক্তারকে গত মঙ্গলবার রাতে ব্রা‏হ্মণপাড়া এলাকা থেকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। গতকাল বুধবার কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনালে ২২ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন সিমা আক্তার। তিনি আদালতকে বলেন, তাঁর স্বামী তাকে নির্যাতন করতেন। এ কারনে তিনি কাউকে কোন কিছু না বলেই গাজীপুরে গিয়ে গার্মেন্টেসে চাকুরী করেছেন। বাড়িতে আসলে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে আসেন।

সীমা আক্তার বলেন, তাঁর স্বামী তাকে নির্যাতন করতেন। এ কারনে তিনি কাউকে কোন কিছু না বলেই গাজীপুরে গিয়ে গার্মেন্টেসে চাকুরী করেছেন।
নিহত সাইফুলের ভাই রাজিব মিয়া ও শ্যামল মিয়া বলেন, তাদের বড় ভাই সাইফুলের স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্য ছিলেন। পরে শশুড় বাড়ির লোকজন তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। সেই জ্বালা সইতে না পেরে আত্নহত্যা করেছিলেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ব্রা‏হ্মণপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এস.আই) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, সিমা আক্তারকে খুন করে লাশ গুমের একটি অভিযোগ এনে তাঁর মা হেলেনা আক্তার বাদী হয়ে আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। পরে দুই পরিবারের মধ্যে মামলাটি মিমাংশার বৈঠক হয়েছিল। দুই লাখ টাকা সাইফুল দিলে মামলা আপোষ করবে বলেছিলেন। কিন্তু সাইফুল সেই টাকাও দিতে পারেননি। পরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যা করেছেন। জীবিত সিমা আক্তারকে আদালতে নিয়ে গেলে তিনি বলেন, স্বামীর নির্যাতনের কারনে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছেন।