ভালোবেসে বিয়ে, অতঃপর করুণ পরিনতি

ডেস্ক রিপোর্টঃ গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া পশ্চিম খন্ড গ্রামের প্রশিকা মোড় এলাকায় শুক্রবার দুপুরে এক গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ।

এ ঘটনার পর থেকে তাঁর স্বামী সিয়াম পলাতক রয়েছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে। নিহত ব্যক্তি হলেন, শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া পশ্চিম খন্ড গ্রামের মনির হোসেনের মেয়ে মনোয়ারা পারভীন (২২)।

অভিযুক্ত মনোয়ারার স্বামী সিয়াম হোসেনের (২৮) বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। নিহতের বড় ভাই রমজান মিয়া জানান, তাদের পরিবার ঢাকায় বসবাস করার সময় মোবাইল ফোনে সিয়ামের সাথে মনোয়ারা পারভীনের পরিচয় হয়। মোবাইলের সম্পর্কের জেরেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

এক পর্যায়ে তারা ঢাকা থেকে গাজীপুরের শ্রীপুরের কেওয়া পশ্চিম খন্ড গ্রামে এসে আব্দুর রাজ্জাক মিয়ার ভাড়া বাড়ির দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে। এরপরও সিয়াম মনোয়ারার সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখে।

গত ৭ মাস আগে সিয়াম মনোয়ারা কে নিয়ে গোপনে বিয়ে করে। বিয়ের বিষয়টি মনোয়ারা পরিবারের লোকজন জানতে পেরে তাদের বিয়ে মেনে নেয়। বিয়ের পর থেকেই মনোয়ারা তাঁর স্বামীকে নিয়ে মা-বাবার সাথে ভাড়া বাড়ীতে বসবাস শুরু করে।

পরে মনোয়ারা পার্শ্ববর্তী মারিয়া ফ্যাশনের টাইম কিপার ও সিয়াম বাড়ির পার্শ্ববর্তী প্রিমিয়াফ্লেক্স প্লাষ্টিক লিমিটেড কারখানায় অফিস সহায়ক পদে চাকুরী নেয়। মাঝে মধ্যেই তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো। পরে তা পারিবারিক ভাবে মিটিয়েও ফেলা হতো।

গত বৃহস্পতিবার রাতে কারখানা থেকে এসে তারা দু’জনই রাতের খাবারের পর একসাথে ঘুমাতে যায়। পরে মনোয়াররা স্বজনেরা সকালে ঘুম থেকে উঠে যার যার কাজে চলে যায়। বেলা ১১টায় স্বজনেরা তাদের কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে ঘরে ঢুকে পারভীনের গলাকাটা নিথর দেহ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। ঘটনার পর থেকেই স্বামী সিয়াম পলাতক রয়েছে।

এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান জানান, মরদেহের পাশ থেকে একটি ছোরা (এন্টিগ্রেটার) উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের কাধ ও পেটে জখমের চিহ্ন রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়ানতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এবিষয়ে একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ