ভিআইপি প্রটোকল বিষয়ে হাইকোর্ট বলেছেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ ভিআইপি নয়, বাকিরা সবাই রাষ্ট্রের চাকর। ফেরি আটকে রাখায় মাদারীপুরে স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে শুনানিতে হাইকোর্ট এ মন্তব্য করেন। ওই মৃত্যুর ঘটনায় ভিআইপি প্রসঙ্গে হাইকোর্ট আরও বলেন, এরা ভিআইপি নন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী।

বুধবার (৩১ জুলাই) এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নেন বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের।

শুনানিকালে হাইকোর্ট বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তারা ভিআইপি না। সংবিধান অনুযায়ী তারা সার্ভেন্ট অফ দ্যা স্টেট (প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী)। রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয় থাকে, সে কারণে তাদের জন্য যে কোনো (ফেরি আটকানোসহ) সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু এটা আরও কারও ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। ইমার্জেন্সি সার্ভিস যেমন অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, দায়িত্বরত পুলিশের গাড়ি তাদেরকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কিন্তু তারপরও অ্যাম্বুলেন্সকে কেন অগ্রাধিকার দেওয়া হলো না?

>>আরো পড়ুনঃ  নিজেদের পতাকা প্রদর্শন, স্বাধীনতার ইঙ্গিত দিল ভারতের ৫ রাজ্য!

এর আগে মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) স্কুলছাত্র তিতাসের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট যুগ্ম সচিব ও ফেরির ম্যানেজারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়।

একই সঙ্গে রিটে তিতাসের মৃত্যুর ঘটনায় স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি গঠন, তিতাসের পরিবারকে তিন কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়। এছাড়া ফেরি ঘাটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অ্যাম্বুলেন্স চলাচল নিশ্চিত করতে নির্দেশনা চাওয়া হয়।

মানবাধিকার সংগঠন লিগ্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড পিপলস রাইটসের চেয়ারম্যানের পক্ষে জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আইনজীবী জহির উদ্দিন লিমন এ রিট করেন। রিটে নৌ মন্ত্রণালয়ের সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান, যুগ্ম সচিব আবদুস সবুর মণ্ডল, মাদারীপুরের ডিসি, পুলিশ সুপার, কাঁঠালবাড়ি ফেরি ঘাটের ব্যবস্থাপক সালাম হোসাইন মিয়া ও কাঁঠালবাড়ি থানার ওসিকে বিবাদী করা হয়।

>>আরো পড়ুনঃ  ডুবন্ত ব্রিজে অ্যাম্বুলেন্সকে পথ দেখিয়ে ‘হিরো’ হলো শিশু

দুর্ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া নড়াইলের কালিয়া পৌর এলাকার একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তিতাস ঘোষকে (১১) নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স গত গত ২৫ জুলাই রাতে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ঘাটে ফেরিতে ওঠে। কিন্তু সরকারের এটুআই প্রকল্পের যুগ্ম সচিব সবুর মণ্ডলের গাড়ির জন্য তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর রাত ১১টার দিকে ফেরিটি শিমুলিয়া ঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয়। তার আগেই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মারা যায় তিতাস।

তিতাসের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএর কর্তাদের অনুরোধ করেও কোনো কাজ হয়নি। এমনকি সরকারি জরুরি সেবার হটলাইন ৯৯৯-এ ফোন করা হলেও ফেরি দ্রুত ছাড়তে কেউ কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ