মসজিদের জেনারেটর, ফ্যান, আইপিএস, গাছ ও আধাপাকা ভবন ভেঙে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ওলামালীগের নেতার বিরুদ্ধে।

বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় হজরত বেল্লাল জামে মসজিদের এসব সম্পত্তি বিক্রি করেছেন ওলামালীগের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে লালন ফকির।

মসজিদের এসব সম্পত্তি ও জমি রক্ষা করতে অভিযুক্ত লালন ফকিরের বিরুদ্ধে বরিশাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুটি মামলা করেছেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কাওছার।

মামলায় ওলামালীগ নেতা লালন ফকির, ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম (নুসা), তার সহযোগী কবির হাওলাদার, বদর মোল্লা ও খলিল হাওলাদারসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। লালন ফকিরের হাত থেকে মসজিদের জমি ও মালামাল রক্ষা করতে আদালতে দুটি মামলা করা হয়েছে।

আদালত মামলাটি গ্রহণ করে উজিরপুর থানা পুলিশকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানায়, ২০১৩ সালে ওলামালীগের আহ্বায়ক লালন ফকিরের বাবা উজিরপুর পৌরসভার ১নম্বর ওয়ার্ডের মাদার্শী মহল্লার বাসিন্দা আব্দুল লতিফ ফকির মসজিদ নির্মাণের জন্য পাঁচ শতাংশ জমি দান করেন। এর পর স্থানীয়দের অনুদান মিলিয়ে প্রায় ৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩৫ ফুট প্রস্থ হজরত বেল্লাল জামে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।

কিন্তু গত ২১ আগস্ট সকালে নুরুল ইসলাম নামের স্থানীয় এক ব্যবসায়ী তার দলবল নিয়ে এসে মসজিদ ভেঙে জেনারেটর, আইপিএস, মসজিদের চালের টিন, থাই জানালা, জানালার গ্রিল ও ফ্যান খুলে নিয়ে যান। বাইরের অংশের দেয়ালের ইটও খুলে নিয়ে যান তিনি।

এ সময় মুসল্লিরা বাধা দিলে নুরুল ইসলাম জানান ওলামা লীগ নেতা লালন ফকির এসব মালামাল তার কাছে বিক্রি করেছেন।

মুসল্লিরা জানান, নুরুল ইসলামের দলটি মসজিদের মিম্বার ভেঙে দিয়েছে। এখন মসজিদের মেঝে ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

মসজিদের জমির ২ শতাংশ নিজের দাবি করে লালন ফকির তা বিক্রি করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কাউছার বলেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর। আল্লাহর ঘর ভাঙার বা বিক্রি করে দেয়ার কোনো অধিকার বান্দার নেই। লালন ফকিরের লিপ্সা থেকে মসজিদের জমি ও মালামাল রক্ষা করতে প্রথমে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করি। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মসজিদের মালামাল বিক্রি করে দিয়েছেন লালন। গত বৃহস্পতিবার বরিশাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লালন ফকিরের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেছি। কিন্তু অদৃশ্য এক শক্তি কারণে লালন ফকির এখনও মসজিদের জমি বিক্রির চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে লালন ফকিরের মা মমতাজ বেগম বলেন, আমার স্বামীর দানকৃত জমিতে ছেলের ব্যক্তিগত টাকায় মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। এটা নিয়ে অন্যের মাথা ঘামানোর দরকার নেই। মসজিদের মালামাল বিক্রির বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

জমি ওয়াকফকারী আব্দুল লতিফ ফকির বলেন, ওই জমি আমি মসজিদের জন্য ওয়াকফ করেছি। মসজিদের ওই জমি আমার পরিবারের কেউ দাবি করতে পারবেন না।

শিকারপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা মো. কবিরুল ইসলাম বলেন, লালনের বাবার ওয়াকফ করা সম্পত্তিতে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। এখন কেউ এটির মালিকানা দাবি করতে পারেন না।

উজিরপুর থানা পুলিশের এসআই মো. মিজান বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মসজিদের গাছ কেটে বিক্রি করেছেন লালন ফকির। বিষয়টি জানতে সেদিন ঘটনাস্থলে যাই। কিন্তু লালর ফকির পুলিশ দেখে পালিয়ে যান।

এসআই মিজান আরও বলেন, জমি ওয়াকফকারী আব্দুল লতিফ ফকির এখনও বেঁচে আছেন। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন ওয়াকফকৃত জমি দাবি করার কোনো অধিকার নেই ছেলে লালন ফকিরের। সূত্র: যুগান্তর।