জে.এইচ বাবুঃ ভারতীয় সিমান্তবর্তী উপজেলা বুড়িচং, কুমিল্লা জেলার অতিনিকটবর্তী এই উপজেলার উপর দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়ক, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের একটি বিশাল অংশ এই উপজেলার উপর দিয়েই অতিবাহিত হয়েছে। প্রবাহিত হয়েছে প্রাচীনতম গোমতী নদী। সিমান্তঘেষা সম্ভবনাময় এই উপজেলার তরুন, কিশোর-কিশোরী ও যুবকরা দিন দিন মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মদ, গাঁজা, বিয়ার, ফেন্সেডিলের পাশাপাশি দেদারে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা। অসাধু কিছু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ম্যানেজ করে এ ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা যায়। এতে করে সচেতন অভিভাবকার তাদের ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে।

বুড়িচংয়ে ভারতীয় সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রতিদিন নদীর স্রোতের মত মাদক প্রবেশ করছে মাদক। মাদক ব্যবসায়ীরা এক শ্রেণীর অসাধু আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে ম্যানেজ করে মদ, বিয়ার, গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ নানাহ প্রকারের মাদক ভারত থেকে এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে। অপর দিকে কুমিলার বুড়িচং উপজেলার যুব সমাজ মরণ নেশা মাদকে সেবনে আসক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে যুব সমাজ দিনদিন ধ্বংসের পথে পতিত হচ্ছে। এতে করে উপজেলার সর্বত্রই চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই আশংকাজনক হারে বেড়ে গেছে। অভিভাবকরা যুবকদের নিয়ে আতংকে দিন কাটাচ্ছেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জেলার বুড়িচং উপজেলা ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ও রাজাপুর ইউনিয়নের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রয়েছে ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা। এর মধ্যে রয়েছে ভারতীয় সীমান্তবর্তী আনন্দপুর, জঙ্গলবাড়ি, পাহাড়পুর, কোদালিয়া, মিরপুর, শংকুচাইল, হায়দ্রাবাদ, পাঁচোরা, চড়ানল, নবিয়াবাদ এ সমস্ত গ্রামের উপর দিয়ে ভারত থেকে অসাধু চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা অবাধেই ইয়াবাসহ বিভিন্ন মরণ নেশার মাদক দেশে আনছে। মাদক যেন গোমতী নদীর স্রোতের মত বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। উলেখিত সীমান্ত এলাকার গ্রামগুলো দিয়ে অবাধেই প্রবেশ করছে এবং এখান থেকে মাদকের বড় বড় চালান ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। অসাধু কিছু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ম্যানেজ করে এ সমস্ত ব্যবসাগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে এক শ্রেণীর ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা। সীমান্তবর্তী এলাকার অধিকাংশ এবং উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কিছু লোক মাদক ব্যবসা এবং মাদকের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র মতে, উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত পথে পাচার হয়ে আসা অধিকাংশ মাদক উপজেলার কংশনগর এলাকায় জড়ো করে। পরে সেখান থেকে একটি অংশ সরাসরি বাস, ট্রাক এবং মাইক্রো বাসে করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করছে। এছাড়াও ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের রসুলপুর-রাজাপুর-শশীদল স্টেশনের মাঝামাঝি বিভিন্ন স্থানে আন্তনগর বিভিন্ন রলের গতিরোধ করেও প্রতিদিন পাচার করছে মাদক।

দেশ জুড়ে মাদকের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান পরিচালিত হলে তালিকাভূক্ত মাদক ব্যবসায়ীরা গা-ডাকা দেয়। সম্প্রতি সময়ে বুড়িচং থানার নতুন ওসি অকুল চন্দ্র বিশ্বাস দায়িত্বে আসার পর তালিতাভূক্ত মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকায় আসতে আরাম্ভ করেছে। তাঁর মধ্যে বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের চড়ানল গ্রামের হুমায়ূন মেম্বার, একই গ্রামের মহাসিন, পাইকোডা গ্রামের জসিম উাদ্দিন ওরফে মামা জসিম, শংকুচাইল গ্রামের বিল্লাল হোসেন, বুড়িচং সদর ইউনিয়নের জগতপুর গ্রামের কামাল হোসেন ওরফে ফেন্সি কামাল এলাকায় এসে আবারো মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পরেছে। কথিত আছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তালিকাভূক্ত মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকায় প্রবেশ করেছে।

তাছাড়া, খুচরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে রাজাপুর গ্রামের হানিফ, দুলাল, হান্নান, টুটুল, দক্ষিণ গ্রাম বাজার এলাকার টিপু, বুড়িচং সদরেন নোয়াপাড়া এলাকার আমির হোসেন, পূর্বপাড়া এলাকার সালাউদ্দিন, আরাগ রোড এলাকার সানি, জয় ইসলাম, মোঃ তারা মিয়া, মোঃ কাজল, মফিজ, জগতপুর গ্রামের শাওন ওরফে ডিস শাওন, বাবু, ষোলনল ইউনিয়নের খাড়াতাইয়া গ্রামের ইমন, ময়নামতি ইউনিয়নের ফরিজপুর গ্রামের আজাদ, কাশেম ভূইয়া, কফিল উদ্দিন কফু, মোবারক, রুস্তম, বাজেবাহেরচর গ্রামের কাশেম, ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়নের কংশনগর গ্রামের কুলছুম, রামচন্দ্রপুর গ্রামের ইউপি সদস্য সেলিম মোল্লা, পশ্চিম শিং গ্রামের রহমান সহ কতিপয় মাদক ব্যবসায়ীরা তাঁদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

সচেতন এলাকাবাসী জানায়, মাদকের কারনে আমাদের ছেলে-সন্তানদের ভবিষ্যত আজ হুমকীর মূখে, আমরা এই বুড়িচংকে মাদক মুক্ত দেখতে চাই। মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে মেরে ফেলার হুমকী প্রদান করা হয়। থানা পুলিশও কোন ব্যবস্থা নেয় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানায়, এলাকার চিহ্নিত কিছু খারাপ প্রকৃতির লোক মাদক ব্যবসা করছে। গ্রামের সহজ সরল লোকজন মাদকের ছোবলে আক্রান্ত হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীরা সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। যারা মাদক বেচাকেনা করে মাদক সেবনে উৎসাহিত করে তারা সমাজের শক্র।

মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবীদ সোনার বাংলা কলেজের অধ্যক্ষ আবু সালেক মোঃ সেলিম রেজা সৌরভ বলেন, মাদক আজ সামাজিক ব্যাধীতে রূপান্তরিত হয়েছে, একটি পরিবারের একজন মাদকের সাথে জড়িয়ে পরলে পুরো পরিবারটি তাঁর মাসুল দিতে হয়। শিক্ষার্থীরা মাদকে জড়িয়ে পরলে তাঁদের সম্ভবনা অংঙ্কুরে বিনষ্ট হয়ে যায়। তাই রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সমাজ থেকে মাদক দূর হলে অপরাধও অনেক অংশে কমে যাবে।

বুড়িচং থানার ওসি আকুল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, এগুলো মনগড়া কথা। আমি না শুধু, জেলা পুলিশ আগেও মাদকের বিরুদ্ধে জোরো টলারেন্স ছিলো, আমি এখনো আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো। মনগড়া কথায় মাদক নিয়ে এমন অহেতুক প্রশ্ন তোলা ঠিক না।