হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাওয়ায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের স্থানীয় এক সাংবাদিককে মারধর ও বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি চ্যানেল এস নামের একটি বাংলা টেলিভিশনের নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি। আহত সাংবাদিক হাবিবুর রহমান বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার ভোররাতে সোনারগাঁও উপজেলার ভাটিরচর এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। লিখিত অভিযোগে হাবিবুর রহমান উল্লেখ করেন, সোনারগাঁর রয়েল রিসোর্টে গত ৩ এপ্রিল বিকালে হেফাজত নেতা মামুনুল হককে স্থানীয়রা অবরুদ্ধ করে রাখেন। সেসময় স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে তিনিও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় ওই সময় থেকেই হেফাজতের লোকেরা তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে আসছিল। সোমবার রাতে ভাটিরচর গ্রামে নিজ বাসায় ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় লাঠিসোটা নিয়ে হেফাজত নেতা-কর্মীরা তার বাড়িতে হামলা করে। এসময় তাকে মারধর করে ঘরের বাইরে নিয়ে আসা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মামুনুলের কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। কথা মতো ক্ষমা না চাওয়ায় তাকে মারধর করে সড়কের পাশে নিয়ে যায় হেফাজত কর্মীরা। সেখানেও তাকে কয়েক দফা মারধর করা হয়।

স্থানীয় সাংবাদিক হাবিবের ছোট ভাই মোফাজ্জল হোসেন বলেন, মামুনুল হকের বাহিনী কয়েক দফায় লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে হাবিবকে। মারধর করে হাবিবের দাঁত ভেঙে ফেলেছে। তাদের কাছ থেকে ভাইকে বাঁচাতে না পেরে ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে তাদের কাছ থেকে হাবিবকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, গত ৩ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হক এক নারীকে নিয়ে সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টে যান। পরে সেখানে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয় লোকজন।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: