ইরাকে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে কুদস বাহিনীর প্রধান কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে এই হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত একটি ঘাঁটিতে হামলার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-র খবরে দুই মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার কথা বলা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনও দুই ঘাঁটিতে হামলার কথা নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আল-আসাদ ঘাঁটিতে হামলা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে হামলায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের নারী মুখপাত্র স্টেফানি গ্রিশাম বলেন, ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় হামলার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। প্রেসিডেন্টকে জানানো হয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা টিমের সঙ্গে তিনি বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছেন ও পরামর্শ দিচ্ছেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের মুখপাত্র জনাথন হফম্যান এক বিবৃতিতে বলেছেন, হামলার প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের কাজ করছি আমরা। তিনি বলেছেন, হামলার শিকার একটি ঘাঁটি হলো আইন আল-আসাদ আরেকটি ইরাকের এরবিলে অবস্থিত।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ‘এইন আল-আসাদের’ ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে বুধবার ভোররাতে এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে। এতে কাসেম সোলাইমানির উপর মার্কিন সেনাদের হামলার কঠোর জবাব দিতে এইন আল-আসাদ ঘাঁটিকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আইআরজিসি’র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যার কাপুরুষোচিত পদক্ষেপের ‘কঠোর প্রতিশোধ’ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। বুধবার ভোররাতে ইরাকে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটি ‘এইন আল-আসাদ’র ওপর ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ঘাঁটিটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

আইআরজিসি বলেছে, অভিযানটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘শহীদ সোলাইমানি’ এবং এই অভিযানের মাধ্যমে যে বিজয় অর্জিত হয়েছে সেজন্য ইরানের মুসলিম জাতিকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

একইসঙ্গে বিবৃতিতে যেসব দেশ তাদের ঘাঁটিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিয়েছে তাদের প্রতিও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, যে দেশের ভূমি থেকেই ইরানের ওপর হামলা চালানো হবে সেই দেশকে শত্রু দেশ হিসেবে চিহ্নিত করে তার ওপরও আক্রমণ চালানো হবে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর) ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন এক রকেট হামলায় নিহত হন ইরানের বিশেষ বাহিনী রেভ্যুলশনারি গার্ডের কুদস শাখার প্রধান জেনারেল ও আঞ্চলিক শক্তি বৃদ্ধির প্রধান কারিগর কাসেম সোলায়মানি। তিনি ইরানের বিপ্লবী বাহিনীর সবচেয়ে প্রভাবশালী কমান্ডার ছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যে জঙ্গিবিরোধী লড়াইয়ে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সূত্র: বিবিসি, পার্স টুডে, আল জাজিরা।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: