পাশাপাশি দুইটি উঁচু ভবনের মধ্যবর্তী স্থান সরু গলির মতো। গলির শুরুতেই একটি শিশু। মুখটা আবছা, ঘাড় বেঁকে থাকায় খালি চোখে মনে হবে, নিষ্পাপ শিশুটি গা এলিয়ে শুয়ে আছে, শীতে কারও উষ্ণতা পেতে। কিন্তু এই একটি ছবিতেই যে একরাশ কান্না জড়িয়ে রয়েছে, তা শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালেও কারও জানা ছিল না। জানতেন না তার প্রিয়জনেরাও। দুপুরে জানার পর ছোট্ট হালিমার এই ছবি এখন কাঁদাচ্ছে সবাইকে।

আড়াই বছরের হালিমা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ভাদুঘর ভূঁইয়াপাড়ার রাজমিস্ত্রি আমির হোসেনের মেয়ে। গত শনিবার সকাল ৭টার দিকে বাড়িতেই খেলছিল। হঠাৎ তার আর খোঁজ নেই। ততক্ষণে ঘাতক চাচা হেলাল তাকে মৃত্যুর ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছেন শিশু ভাতিজি হালিমাকে।

এর কারণ তার মা অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় শিশু হালিমাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে তারই চাচা হেলাল।

আজ সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেছে পুলিশ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ভাদুঘর ভুঁইয়াপাড়া এলাকায় বাড়ির পাশ থেকে গত শনিবার শিশু হালিমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে শিশুটির চাচা হেলাল ও রুবেল নামে দুইজনকে আটক করা হয়। পুলিশের কাছে দেয়া জবানবন্দীতে আটকরা জানায়, ‘দুই মাস আগে শিশুটির মা’কে অনৈতিক প্রস্তাব দেয় হেলাল। বিষয়টি বাড়িতে জানালে হেলালকে শাসান পরিবারের সদস্যরা।

আর এই ‘অপমানের প্রতিশোধ’ নিতে শিশু হালিমাকে শ্বাসেরাধ করে হত্যা করে হেলাল ও তার সহযোগী রুবেল।

উল্লেখ্য, হালিমার সন্ধানে অনেক খোঁজখবর করার পর না পেয়ে মাইকিং করা হয়। মাইকিং চলার ফাঁকেই ওইদিন দুপুর পৌনে ১টার দিকে খবর পাওয়া যায় হালিমার সন্ধান পাওয়া গেছে। শিশু হালিমার মরদেহ মিলেছে দুটি ভবনের ফাঁকে। সন্তান হারানোর বেদনা নিয়ে মা-বাবা তো পড়িমড়ি করে ছুটে গিয়ে জেলা শহরের ভাদুঘর ভূঁইয়াপাড়া থেকে হালিমার মরদেহ উদ্ধার করে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: