বরগুনা সদরে প্রকাশ্যে রিফাত শরীফ হত্যা মামলার এক নম্বর সাক্ষী ও তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি এখন ওই মামলায় গ্রেফতার হয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ডে আছেন। বুধবার বিকেলে (১৭ জুলাই) বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী তার এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ সময় মিন্নির পক্ষে ছিলেননা কোন আইনজীবী।

এ খবর শুনেমিন্নির পক্ষে মামলা পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ফেনীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যায় গ্রেফতার সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ। তিনি সম্প্রতি গণমাধ্যমকে তার ইচ্ছার কথা জানান। বলেন, মিন্নির পক্ষে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিতে ইচ্ছুক তিনি।

ফারুক আহম্মেদ বলেন, মিন্নির পরিবার চাইলে তার পক্ষে ফারুক অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েট দাঁড়াতে চায়। ফারুক অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস সব সময় নির্যাতিত, অসহায় ও অসচ্ছল পরিবারের পক্ষে ন্যায়বিচারের জন্য মামলা পরিচালনা করে থাকে।

ফারুক বলেন, ‘আমরা ঢাকা থেকে মিন্নির জন্য মামলা পরিচালনা করব। এ জন্য মিন্নির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। আমরা তাকে লিগ্যাল এইড (বিনা পয়সায় মামলা পরিচালনা) দেব।’

অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালীদের চাপে বরগুনার কোনো আইনজীবী মামলা পরিচালনা করার সাহস পাননি।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, আমার মেয়ে নির্দোষ। রিফাতকে বাঁচাতে সে জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিল, যেটা দেশবাসী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন। তারপরও আমার মেয়েকে ফাঁসানো হয়েছে। কারণ, আসামিরা প্রভাবশালীদের আত্মীয়স্বজন। তাদের সঙ্গে প্রভাবশালীদের যোগসূত্রও রয়েছে। মূলত আসামিদের বাঁচানোর জন্য আমার মেয়েকে ফাঁসানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার রাতে পুলিশের পক্ষ থেকে মিন্নিকে গ্রেফতারের বিষয়টি আমাকে জানানো হয়। সাক্ষী থেকে আসামি হওয়ার পরই আমি মিন্নির পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করি। রাতেই পরিচিত তিনজন আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি। তারা তিনজনই মিন্নির পক্ষে আদালতে দাঁড়াতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তারা জানিয়েছেন, আইনজীবী সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা মিন্নির পক্ষে আইনি লড়াইয়ে থাকবেন না।

প্রসঙ্গত, ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা করেছিলেন ব্যারিস্টার সাইয়্যেদুল হক সুমন। ওই মামলায় ওসি মোয়াজ্জেমের প্রধান আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ। এর আগে তিনি পুলিশ দম্পতি হত্যা মামলার আসামি ঐশী, বিডিআর বিদ্রোহ মামলা, রমনা বটমূলে বোমা হামলা মামলা, হলি আর্টিজান হামলার মামলাসহ একাধিক মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে মামলা পরিচালনা করেন।