মুরাদনগরে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ৪০ একর ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি

মুরাদনগর (কুমিল্লা) সংবাদদাতাঃ কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ঘোড়াশাল এমবিসি ইটভাটার ক্ষতিকর বিষাক্ত ধোঁয়ায় প্রায় ৪০ একর ইরি-বোরো ধানের জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টির ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা অবৈধ উক্ত ইটভাটা বন্ধসহ জমির ক্ষতিপূরণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর সু-দৃষ্টি কামনা করেছে।

সরেজমিন গিয়ে কৃষকদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, ঘোড়াশাল এমবিসি ইটভাটার পাখা জ্যাম হয়ে যাওয়ায় চুঙ্গি ভেঙ্গে ও ফেটে যাওয়ার আশংকায় ২মে বুধবার সন্ধ্যায় নিজেরাই বিষাক্ত গ্যাস জমিতে ছেড়ে দেয়। এতে ঘোড়াশাল মাঠের প্রায় ৪০ একর ইরি-বোরো ধানের জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল-মামুন রাসেল মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মৌখিক বর্ণনা শোনে তদন্তের পর ইটভাটা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ^াস প্রদান করে। ২০১৬ সালেও একই ঘটনা ঘটেছিল। তখন কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে ইটভাটা মালিক কোনরকমে রক্ষা পায়।

ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক মোফাজ্জল হোসেন মধু, জয়নাল আবেদীন, শহীদ মিয়া, জসিম উদ্দিন, কবির হোসেন ও আলম মিয়া জানান, তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মনসুর উদ্দিন জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স না থাকায় সম্প্রতি এমবিসি ইটভাটা কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ইটভাটাটি সীলগালা করে দিয়েছিল। জরিমানা দেওয়ার পরও মোবাইল কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে কিভাবে ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা করে তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স ছাড়াই পরিবেশ অধিদপ্তর ও জিটিসিএল কি ভাবে ইটভাটা পরিচালনার ছাড়পত্র দেয় তা অভিজ্ঞ মহলের বোধগম্য নয়। ইটভাটার ক্ষতিকর বিষাক্ত ধোঁয়ায় ফসলি জমির ক্ষতির বিষয়টি তাৎক্ষনিক পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লা অ লের উপ-পরিচালককে জানানোর পরও ইটভাটা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোন প্রকার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

বিষয়টির ব্যাপারে অভিযুক্ত এমবিসি’র ইটভাটা মালিক মোস্তাক মিয়া জানান, কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে এ ক্ষতি করেনি। অনিচ্ছাকৃত ভাবে কৃষকদের অপুরনীয় ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের সাথে কথা হয়েছে। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল-মামুন রাসেল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, জমির পরিমান উল্লেখ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নামের তালিকা তৈরী করার জন্য উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে ক্ষতিপূরণ চেয়ে আবেদেন করতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বলা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিতু মরিয়ম জানান, খবর পেয়ে বিষয়টি সরেজমিনে দেখার জন্য ঘটনাস্থলে কৃষি কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তার তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর ইটভাটা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ