বিশ্বকাপের ২৬তম ম্যাচে টাইগারদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। প্রথমে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৩৮১ রানের পাহাড়সম স্কোর করে অজি শিবির। তাই বাংলাদেশকে জিততে করতে হবে ৩৮২ রান। এই রান তারা করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভার খেলে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩৩৩ রান করে বাংলাদেশ। যার ফলে মুশফিকের সেঞ্চুরির পরেও ৪৮ রানে হেরে যায় টাইগাররা।

সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাচিয়ে রাখতে হলে এই ম্যাচে জেতার কোন বিকল্প ছিলনা বাংলাদেশের। কিন্তু টাইগারদের সামনে ছিল পাহাড়সম রান। এই স্কোর তারা করেতে নেমে শুরুটা সাদামাটা হয় টাইগার দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকারের। কিন্তু দলীয় ২৩ রানে তামিম ইকবালের সাথে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউটের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যায় সৌম্য সরকার। মিড অন থেকে অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের থ্রোয়ে স্টাম্প ভেঙ্গে যায় কিন্তু তার আগে সৌম্য ফিরতে পারেননি।

এরপর তামিমের সঙ্গী হিসাবে ক্রিজে আসেন সাকিব আল হাসান। এই দুই জন দেখে শুনে বাংলাদেশের রানের চাকা সচল রাখছেন। কিন্তু আজ ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। আউট হওয়ার আগে তামিম-সাকিব গড়েন ৭৯ রানের জুটি। স্টয়নিসের স্লোয়ার বল লেগ সাইডে খেলতে চেয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু লিডিং এজ হয়ে ক্যাচ উঠে যায় মিড অফে। আর তার ক্যাচটি লুফে নেন ডেভিড ওয়ার্নার। প্যাভিলিয়নে ফিরার আগে ৪১ বলে ৪১ রান করেন তিনি। সাকিবের বিদায়ের পর মুশফিকুর রহিমকে সাথে নিয়ে ২৭তম ওয়ানডে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তামিম ইকবাল। কিন্তু হাফ সেঞ্চুরি কিছু পরেই সাজঘরে ফিরে যায় তামিম। আউট হওয়ার আগে ৭৪ বলে ৬২ রান করে। আর এলবিডব্লিউ ফাঁদে পরে ২০ রান করে লিটন আউট হয়।

কিন্তু মাঝপথে এসে দলের হাল ধরেন মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ভালো কিছুর আভাসও দিয়েছিলেন রিয়াদ কিন্তু দলীয় ৩০২ রানে মাহমুদউল্লাহ আউট হয়ে গেলে চাপে পরে টাইগাররা। মাহমুদউল্লাহ আউট হওয়ার আগে ৫০ বলে ৬৯ রান করে। সবাই হয়তো মনে করতেছিলেন এই বিশ্বকাপে প্রথম চান্স পাওয়া সাব্বির হয়তো নিজেকে মেলে ধরতে পারবেন। কিন্তু নিজেকে প্রমান করতে ব্যার্থ হয় সাব্বির আউট হয় শুন্য রানে।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শুরুতে টাইগার বোলারদের দেখে শুনে খেলতে থাকেন অস্ট্রেলিয়ান দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চ। কিন্তু শুরুর দিকে নতুন বলে টুকটাক সুযোগ তৈরি হলেও আনন্দের উপলক্ষ্য তৈরি হয়নি বাংলাদেশের জন্য। তবে নিজের ব্যাক্তিগত ১০ রানে জীবন পেয়ে টাইগার বোলাদের উপর একাই তাণ্ডব চালিয়েছে ডেভিড ওয়ার্নার। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ তুলে তুলেন ডেভিড ওয়ার্নার।

আর সেই ক্যাচ তালুবন্দী করতে ব্যার্থ হয় সাব্বির রহমান। উদ্বোধনী জুটিতে অস্ট্রেলিয়াকে দারুণ সূচনা এনে দেয়। কিন্তু তাদের শতরানের ওপেনিং জুটি ভাঙ্গেন পার্টটাইম বোলার সৌম্য সরকার।অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক আউট হওয়ার আগে ৫১ বলে ৫৩ রান করেন। এরপর উসমান খাজাকে সাথে নিয়ে ডেভিড ওয়ার্নার তুলে নেন চলমান বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।

বিপজ্জনক হয়ে ওঠা সেই ওয়ার্নারকে ফিরিয়ে ইনিংসে নিজের দ্বিতীয় উইকেট পেয়েছেন সৌম্য সরকার। ১০ রানে জীবন পাওয়া ওয়ার্নার আউট হওয়ার আগে ১৪৭ বলে ১৬৬ রান করেন। বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ান কোনো ব্যাটসম্যানের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইনিংস। শেষের দিকে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ১০ বলে ৩৪ ও উসমান খাজার ৮৯ রানে বড় স্কোর করে অস্ট্রেলিয়া। এছাড়া আর কেউই উইকেটে দারাতে পারেনি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ৩৩৩/ ৮ (৫০ ওভার)

টার্গেট: ৩৮২

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মাহমুদউল্লাহ, সাব্বির রহমান, মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), মেহেদী হাসান মিরাজ, রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান।

অস্ট্রেলিয়া একাদশ: ডেভিড ওয়ার্নার, অ্যারন ফিঞ্চ (অধিনায়ক), উসমান খাজা, স্টিভ স্মিথ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, মার্কোস স্টইনিস, অ্যালেক্স ক্যারে (উইকেটরক্ষক), নাথান কুল্টার-নাইল, প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, অ্যাডাম জাম্পা।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: