রিমান্ডে মুখ খুললেন রাশেদ, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

ডেস্ক রিপোর্টঃ সরকারি চাকরিতে কোটা ৫৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবিতে গত এপ্রিলে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে আন্দোলনের মুখে ১১ এপ্রিল কোটা থাকবে না বলে ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরপর ২ মে এবং সব শেষ ২৭ জুন সংসদে একই কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। জানান, এ নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ করছে। এতদিন ধরে চলে আসা পদ্ধতিটি কীভাবে বাদ দেয়া যায়, সেটি নিয়ে কাজ চলছে। তারা প্রতিবেদন দিলেই সিদ্ধান্ত হবে।

এর পাশাপাশি কোটা আন্দোলনের নেতা রাশেদ খান গত ২৭ জুন ফেসবুক লাইভে এসে ‘রক্ত গরম হয়ে গেছে’ জানিয়ে বারবার ছাত্রদেরকে বাড়ি থেকে ক্যাম্পাসে ফিরে এসে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানান। এমনকি সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণাকে তার নাম উল্লেখ না করেই একাধিকবার প্রতারণা বলে উল্লেখ করেন। বলেন, ‘মনে হচ্ছে এই দেশ তার বাপের দেশ।’

পরে এই ভিডিও বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি করা হয়েছে এমন অভিযোগ করে শাহবাগ থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেন ছাত্রলীগ নেতা আল নাহিয়ান খান জয়। আর সেই মামলাই পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয়া হয় তাকে।

এদিকে রিমান্ডে থাকা কোটাবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক রাশেদ খান চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য দিয়েছে বলে দাবি করেছে ডিবি পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (৩ জুলাই) ডিবির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের এডিসি নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, রিমান্ডে রাশেদ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে আমরা সেগুলো যাচাই-বাছাই করছি।

তিনি বলেন, ‘কোটাবিরোধী আন্দোলনের জন্য টাকা আসত বিকাশ এবং রকেট অ্যাকাউন্টে। এই টাকা পাঠানো হতো দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে। এর মধ্যে ১৫টি বিকাশ এবং ৫টি রকেট অ্যাকাউন্ট। ইতোমধ্যে এসব অ্যাকাউন্টে কী পরিমাণ টাকা এসেছে এবং দেশের কোন কোন স্থান থেকে এসেছে বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিকাশ এবং রকেট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে ডিবি পুলিশ।’

নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘রাশেদ খানের কাছে যেসব অ্যাকাউন্ট পাওয়া গেছে। সেগুলো বিভিন্ন ব্যক্তির নামে। সেখানে আন্দোলন পরিচালনার জন্য টাকা আসত। ওই টাকা দিয়ে তারা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করত।’

ডিবির এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘কোটাবিরোধী আন্দোলনে শলাপরামর্শ হতো ফেসবুক গ্রুপে। গ্রুপের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হতো। সে অনুযায়ী পরের দিন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তা ঘোষণা করা হতো। আর গৃহীত এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য যে টাকার প্রয়োজন তা বিকাশ এবং রকেট অ্যাকাউন্টে আসত।’

‘কর্মসূচি দেয়ার আগে তারা ফেসবুক গ্রুপ অ্যাম্বাসেডর, অ্যাকটিভিস্ট ও অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নামের তিনটি ফেসবুক গ্রুপে আলাপ-আলোচনা করত। গ্রুপের আলোচনা অনুযায়ী তারা কর্মসূচি ঘোষণা করত।’

‘আন্দোলনকারীদের এ ধরনের প্রায় ২০টি গ্রুপ রয়েছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব গ্রুপেই আন্দোলন সম্পর্কে আপডেট তথ্য সরবরাহ করা হতো। ২০ অ্যাকাউন্টের মধ্যে রাশেদ অ্যাডমিন ছিল পাঁচটির।’

ডিবির এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আন্দোলনের জন্য তারা সারা দেশ থেকে বাছাই করে ২০ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে।’

টাকা কোথায় থেকে আসত? এমন প্রশ্নে এডিসি নাজমুল বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাশেদ জানিয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আন্দোলন চালিয়ে যেতে টাকা পাঠানো হতো। তবে বিষয়টি অধিকতর যাচাইয়ের জন্য আমরা বিকাশ এবং রকেট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছি। তারা তথ্য দিলে আমরা জানাতে পারব, টাকার প্রকৃত উৎস কোথায়।’

প্রসঙ্গত, গত রবিবার (১ জুলাই) মিরপুর-১৪ নম্বর থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের তিন নেতাকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন। ওই তিন নেতা হলেন- ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজ খান ও যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন কবীর।

পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, শাহাবাগ থানায় তথ্য-প্রযুক্তি আইনের মামলায় রাশেদ খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ