কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লায়ন এনায়েত উল্লাহর এফসিএ মৃত্যুবরণ করেছেন। আজ রবিবার দুপুরে ঢাকা আনোয়ার খান মডার্ণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি…. রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তিনি স্ত্রী, ২ কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে এলজিআরডি মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও এনায়েত উল্লাহর মৃত্যুতে লাকসাম উপজেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শোক প্রকাশ করেছেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, ১ মাস আগে লায়ন এনায়েত উল্লাহ এফসিএ করোনায় আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকা আনোয়ার খান মডার্ণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তিনি করোনামুক্ত হলেও শারিরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত কয়েকদিন আগে তার অসুস্থতা বাড়তে থাকে। অবস্থার অবনতি হলে গত বুধবার বিকেলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। আজ রবিবার দুপুরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৫১ সালে লাকসাম উপজেলার মুদাফফরগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের হামিরাবাগ গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন লায়ন এনায়েত উল্লাহ এফসিএ। আব্দুল জলিল ও আয়েশা খাতুন দম্পতির ৪ ছেলে ও ৪ মেয়ের সংসারে তিনি সবার বড়। তার শিক্ষা জীবনের শুরু শ্রীয়াং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। পরে শাহরাস্তি উপজেলার বিজয়পুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি সম্পন্নের পর তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর (অর্থনীতি) এবং ইনিস্টিটিউট অব চার্টার্ড একাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) থেকে চার্টার্ড একাউন্ট্যান্সি ডিগ্রি অর্জন করেন। আওয়ামী পরিবারে বেড়ে ওঠা এনায়েত উল্লাহ ১৯৬৮ সালে নওয়াব ফয়জুন্নেছা কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্রলীগে সম্পৃক্ত হন। ১৯৯৪ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি বৃহত্তর লাকসাম বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৭ সালে গঠিত লাকসাম থানা আওয়ামী লীগ কমিটির সদস্য ছিলেন এনায়েত উল্লাহ এফসিএ।

কর্মজীবনে তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলেন। ১৯৮৩ সালে চার্টার্ড একাউন্ট্যান্সি ডিগ্রি অর্জনের পর থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনি একটি নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান (অডিট ফার্ম) পরিচালনা করেন। ২০০১ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত বিশ্বের সর্ববৃহৎ সেবা সংগঠন লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল (ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫ বি ২) এর গভর্নর ছিলেন। পরবর্তীতে ২০০২ সালে আমেরিকা গমন করে ২০১০ সাল পর্যন্ত সেখানে কাটান। আমেরিকা থেকে প্রত্যাবর্তনের পর তিনি পুনরায় অডিট ফার্মে যুক্ত হন। ২০১১ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মনোহরগঞ্জ উপজেলার নীলকান্ত ডিগ্রি কলেজের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আমৃত্যু যৌথ ভাবে শফিক-বসাক এন্ড কোম্পানি নামক একটি অডিট ফার্ম পরিচালনা করেছেন। পাশাপাশি ইউনিয়ন ব্যাংক এর পরিচালক এবং সাধনা সংসদ’র সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: