ভারতের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে লাদাখ সীমান্তে ব্যাপক সংখ্যায় সেনা মোতায়েন করেছে চীন।

গত সপ্তাহে সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর নতুন করে চীনা সেনাবাহিনীর (পিএলএ) পক্ষ থেকে অন্তত ৩ ব্যাটালিয়ন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জিনিউজ ও ডেইলি নিউজ অ্যানালাইসিসের (ডিএনএ)

রিপোর্টে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ সেপ্টেম্বর এলএসি’র রেচিন লার কাছেই পিএলএ গ্রাউন্ড ফোর্সের এক ব্যাটালিয়ন সেনা মোতায়েন করে বেইজিং। এরপর আরও দুই ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয় স্প্যাঙ্গুর লেকের কাছে।

নতুন মোতায়েন সব ব্যাটালিয়নই চীনা সেনাবাহিনীর ৬২ কমবাইন্ড আর্মস ব্রিগেডের অংশ। প্রায়ই এলএসি পার হয়ে ভারতীয় ভূ-খণ্ডে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে এসব সেনা। সর্বশেষ সোমবার রড, বর্শা ও লাঠি নিয়ে চুসুল সীমান্তের মুখরি এলাকায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে তারা।

পরে ভারতের ‘ওয়ার্নিং ফায়ার’র (সতর্কতামূলক গুলি) পর পাল্টা ওয়ার্নিং ফায়ার করে শান্ত হয় দু’পক্ষই। তবে সামনের দিনগুলোতে চীন এমন ঘটনা আরও ঘটাতে পারে বলে মনে করছে ভারত।

চলতি সপ্তাহে লাদাখ সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সোমবার ভারতীয় ও চীনা বাহিনীর মধ্যে এক দফা গোলাগুলির পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে। প্রথমে ভারতীয় সেনারা গুলি চালায় বলে অভিযোগ করেছে চীন। পরদিনই রড-বর্শা হাতে চীনা বাহিনী অনুপ্রবেশের ছবি প্রকাশ করে ভারত।

সেনাসূত্রের বরাত দিয়ে দ্য হিন্দু জানায়, লাদাখের মুখরি এলাকার রেচিং লায় ভারতীয় সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে হাতে রড, বর্শা ও লাঠি নিয়ে এগোনোর চেষ্টা করেছিল চীনা সেনারা।

নয়াদিল্লির দাবি, সোমবার সন্ধ্যায় লাদাখের ব্যাংহং হুনানে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) পেরিয়ে ভারতের দখলে থাকা একটি পাহাড়ের চূড়া দখলের চেষ্টা করে চীনা বাহিনীর ৫০ থেকে ৬০ জন সদস্য। এ সময় ফাঁকা গুলিও চালায় তারা। এর জবাবে সতর্কতামূলক গুলি চালায় ভারতীয় সেনাবাহিনীও।

সময়মতো দু’পক্ষেরই উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগে ১৫ জুন লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে উভয়পক্ষের সেনারা। এক পক্ষ অন্যপক্ষকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে।

একপর্যায়ে চীনা সেনারা কাঁটাতারযুক্ত রড দিয়ে ভারতীয় সেনাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হন। তবে একই সঙ্গে সেনা এবং কূটনৈতিক স্তরে আলোচনাও শুরু হয়। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে দুই দেশ একটি সমঝোতায় পৌঁছায়।

ঠিক হয়, সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে ও সুসম্পর্ক বজায় রাখতে দুই দেশই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে সেনা সরিয়ে নেবে।

গালওয়ান অঞ্চলে সে প্রক্রিয়া শুরুও হয়। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে প্যানগং, ডেপসাং এবং গোগরা হট স্প্রিং নিয়ে। কারণ এই তিনটি অঞ্চলের ভূখণ্ড নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিবাদ ঐতিহাসিক।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: