ডেস্ক রিপোর্টঃ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের কুমিল্লার ৪ জনসহ ৪৯ এমপি শপথ নিয়েছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার পর সংসদের নিচতলায় অবস্থিত শপথ কক্ষে এমপি হিসেবে তারা শপথ নেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তাদের শপথবাক্য পাঠ করান।

এর আগে নারী সংসদ সদস্যদের নির্বাচিত ঘোষণা করে রোববার প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির যুগ্ম সচিব ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম বলেন, ৪৯টি নারী আসনের কোনোটিতে একাধিক প্রার্থী না থাকায় কমিশন সবাইকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ৪৩ জন, জাতীয় পার্টির চারজন, ওয়ার্কার্স পার্টির একজন এবং স্বতন্ত্র একজন প্রার্থী রয়েছেন। বিএনপি এমপিরা এখনও শপথ না নেয়ায় তাদের নির্ধারিত ১টি আসন এখনও শূন্য।কুমিল্লার ৪ জনের মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনীত ২জন, জাতীয় পার্টির ১ জন ও স্বতন্ত্র থেকে একজন।রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম জানান, সংরক্ষিত ৪৯টি নারী আসনের কোনোটিতে একাধিক প্রার্থী না থাকায় তারা সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

কুমিল্লার ৪ জন হলেন- আওয়ামী লীগের আঞ্জুম সুলতানা সীমা ও আরমা দত্ত, জাতীয় পার্টির অধ্যক্ষ রওশন আরা মান্নান ও স্বতন্ত্র একমাত্র প্রার্থী সেলিনা ইসলাম। আসুন জেনেনেই তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত-

আরমা দত্ত : স্মাইলিং প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক ও প্রিপ ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক আরমা দত্তের আরেকটি বড় পরিচয় হচ্ছে তিনি পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য, ১৯৭১ সালে পাক বাহিনীর হাতে শহীদ ও বাংলা ভাষার অন্যতম রূপকার ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নাতনি।

কুমিল্লায় পৈত্রিক বাড়িতে ১৯৫০ সালের ২০ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন আরমা দত্ত। বাবা সঞ্জীব দত্ত ছিলেন পাকিস্তান অবজারভার পত্রিকার সাংবাদিক। মা প্রতীতি দেবী বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ঋত্তিক ঘটকের যমজ বোন।

ছোট চাচা দীলিপ দত্তই মূলত বিষয় সম্পত্তি দেখাশোনা করতেন। ১৯৭১ সালে দাদা ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত আর একমাত্র চাচা দীলিপ দত্ত দু’জনেই পাকবাহিনীর হাতে শহীদ হন।

আঞ্জুম সুলতানা সীমা : আঞ্জুম সুলতানা সীমা কুমিল্লা অঞ্চলের আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ আফজল খানের মেয়ে।

তাকে কুমিল্লা সিটি করপোরশনের নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীন কোন্দলের জন্য সেই নির্বাচনে আঞ্জুম সুলতানা বিজয়ী হতে পারেননি।

বিজয়ী না হলেও প্রধানমন্ত্রীর স্নেহ থেকে তিনি বঞ্চিত হননি। এবার সংরক্ষিত মহিলা আসনে আঞ্জুমকে নির্বাচিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত স্নেহ যে তার প্রতি রয়েছে, এটা আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় সবাই জানেন।

এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে তাকে আগামী দিনের নেতৃত্বের জন্য গড়ে তুলতে চান তা স্পষ্ট হয়েছে।

রওশন আরা মান্নান : জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির (এ) এর ভাইস চেয়ারম্যান, জাতীয় মহিলা পার্টি (এ) এর কুমিল্লা জেলা শাখার সভানেত্রী অধ্যক্ষ রওশন আরা মান্নান।

তিনি গত সংসদেও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রনালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

অধ্যক্ষ রওশন আরা মান্নান এমপি ১৯৪৮ সালের ৩ জানুয়ারী কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কাপ্তান বাজারে এক মুলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।

তাঁর পিতা মোঃ তাজু মিয়া (তাজ), মাতাঃ আনোয়ারা বেগম। ১২ বোনের মধ্যে তিনিই সবার বড়। মুসলিম পরিবারে ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে বড় হয়ে ওঠেন তিনি।

সেলিনা ইসলাম : ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে স্বতন্ত্র ভাবে নির্বাচন করে বিজয়ী হন শহীদ ইসলাম পাপুল। সংরক্ষিত (নারী) আসনে স্বতন্ত্র এমপিদের গ্রুপ থেকে তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে নির্বাচিত হয়েছেন।

সেলিনার পৈতৃক বাড়ি কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায়। তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি।

পাপুল-সেলিনা দম্পতি এমপি নির্বাচিত হওয়ায় তাঁদের সৌভাগ্যবান মনে করছেন সবাই। আবার মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অনেকে। কেউ বলছেন, অনন্য এক ইতিহাস গড়লেন এ দম্পতি।

সেলিনা মেঘনা উপজেলার সোনাকান্দা গ্রামের মরহুম হাজী মুজিবুর রহমানের মেয়ে। তিনি গত ৭ বছর বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত থেকে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: