বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার কুমিড়া পন্ডিতপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সাবেক দুই ইউপি সদস্যসহ তিনজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিনা মূল্যে বই বিতরণ বন্ধ হয়ে গেছে। তালা দেওয়া হয়েছে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে। শনিবার (২ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভাটরা ইউনিয়নের কুমিড়া পন্ডিতপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- ভাটরা ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আখতারুজ্জামান মানিক (৪৫), ৪নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য বেলাল হোসেন (৪২) ও বাবু মিয়া (৪০)। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

জানা গেছে, শনিবার সকালে কুমিড়া পন্ডিতপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনা মূল্যে বই বিতরণের আয়োজন করেন বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা মজনুর রহমান। এ সময় ভাটরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মোরশেদুল বারীসহ তার লোকজন এসে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাধ্যমে বই বিতরণের দাবি করেন। এই নিয়ে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বর্তমানে এ ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আবারো যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটতে পারে। সম্পর্কে ভাটরা ইউনিয়ন আওলীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মোরশেদুল বারীর ছোট ভাই মজনুর রহমান মজনু।

কুমিড়া পন্ডিতপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি মজনুর রহমান বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মোরশেদুল বারীর নেতৃত্বে তার লোকজন বই বিতরণ বন্ধ করে দেন। বিদ্যালয়ের সভাপতি আমি, বই আমিই বিতরণ করবো। শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকদের স্কুলের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা দিয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

ভাটরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মোরশেদুল বারী বলেন, এলাকাবাসী মজনুকে সভাপতি হিসেবে মানে না। প্রধান শিক্ষকের কক্ষে এলাকাবাসী তালা দিয়েছে। শিক্ষকদের ছাড়াই তিনি বই বিতরণের আয়োজন করলে এলাকাবাসী বাধা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের বই শিক্ষকরা বিতরণ করলে কেউ বাধা দেবে না।

কুমিড়া পন্ডিতপুকুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবু রায়হান বলেন, বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি বই বিতরণের আয়োজন করেন। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান মোরশেদুল বারীসহ তার লোকজন এডহক কমিটির সভাপতিকে অবৈধ দাবি করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: