অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের মৃত্যুজনিত ঘটনা তদন্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেবে আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর)। গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কক্সবাজার হিলডাউন সার্কিট হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এ তথ্য জানান।

সিনহার মৃত্যুর ঘটনাটি কেন ঘটেছে এবং এ ঘটনায় কারা কারা দায়ী তা খতিয়ে দেখতে কমিটি এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মোট ৬৮ জনের সঙ্গে কথা বলেছে, তাদের বক্তব্য গ্রহণ করেছে। এই সব বক্তব্য এবং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণ করে কমিটির সকল সদস্য সর্বসম্মতভাবে যে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে সেটি আজ মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়ার কথা রয়েছে। গত ২রা আগস্ট চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে প্রধান করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ৩রা আগস্ট থেকে এ কমিটি তাদের কার্যক্রম শুরু করে। টেকনাফে সিনহা নিহত হওয়ার পরপরই পুলিশ বাদী হয়ে সিনহা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করে। ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন মেজর সিনহার বড়বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। এ মামলায় ৭ পুলিশ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এছাড়া হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে র‌্যাব আরো ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। এদের মধ্যে তিনজন হলেন পুলিশের করা মামলার সাক্ষী। অন্য তিনজন হলেন এপিবিএনের সদস্য। গ্রেপ্তারকৃত প্রত্যেককেই র‌্যাব হেফাজতে দফায় দফায় রিমান্ডে নেয়া হয়। এ সংক্রান্ত সব মামলা এখন তদন্ত করছে র‌্যাব। এরই মধ্যে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী এবং এসআই নন্দ দুলালসহ ৮ জন ফৌজদারি কর্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা এখন কারাগারে আছেন। জবানবন্দি না দিলেও একাধিক দফায় রিমান্ড শেষে কারাগারে আছেন টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। গতকাল রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বাকি চার আসামি এএসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল- সাফানুল করিম, কামাল হোসেন এবং আবদুল্লাহ আল মামুনকে ফের ৪ দিনের রিমান্ডে নেয় র‌্যাব।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: