অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের হত্যাকাণ্ড জঘন্যতম ঘটনা বলে বর্ণনা করেছেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। তিনি বলেছেন, সেনাবাহিনীর আর কাউকে যেন তার মতো ভাগ্য বরণ করতে না হয়, সেজন্য এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হতে হবে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের ২৪ পদাতিক ডিভিশন ভাটিয়ারিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এদিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল সকালে চট্টগ্রামে ২৪ পদাতিক ডিভিশনে সেনাবাহিনীর ৬ ইউনিটকে রেজিমেন্টাল কালার প্রদান করেন জেনারেল আজিজ আহমেদ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান।

অনুষ্ঠানের পর এক সাংবাদিকের প্রশ্নে সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, ‘যারা ক্রিমিনাল তাদের উপযুক্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা সেনাবাহিনীর সার্ভিং অথবা রিটায়ার্ড কারও সঙ্গে না ঘটে। আমি সেটা প্রত্যাশা করি।’ ঘটনার তদন্তে সন্তুষ্ট কি না জানতে চাইলে জেনারেল আজিজ বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত হচ্ছে, এ ব্যাপারে কিছু বলা যাবে না। যে ঘটনাটা ঘটেছে সেটা সবাই জানে। অত্যন্ত জঘন্যতম একটা ঘটনা ঘটেছে এবং সেটার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হতে হবে। এটা তদন্তে বেরিয়ে আসবে এবং সাজাটা যখন হবে তাহলে সন্তুষ্টির প্রশ্ন আসবে। তার আগে সন্তুষ্টি কীভাবে বলব, বলার সুযোগ নেই।’

সেনা প্রধান বলেন, ‘আমরা যুগ যুগ ধরে দেখে আসছি, কোনো ঘটনা ঘটলে কেউ না কেউ এটার আনডিউ প্রিভিলেজ নিতে চায়। এবারও অনেকে চেষ্টা করেছিল। হয়তো এখনো চেষ্টা করছে। এ ধরনের ঘটনা চলতেই থাকবে। তবে সচেতন মানুষ এগুলো বোঝে। যে ঘটনা ঘটেছে অবশ্যই অত্যন্ত নৃশংস ঘটনা, ন্যক্কারজনক ঘটনা। শুধু সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেই ঘৃণা জানানো হয়নি, পুলিশপ্রধানও সেদিন এসেছিলেন। তারাও সে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। সবাই এ ঘটনার জন্য মর্মাহত হয়েছেন। এরকম একটা ঘটনাকে নিয়ে কেউ যদি অন্য কিছু করার চেষ্টা করে সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা, সেটা কাক্সিক্ষত নয়।’

সেনাবাহিনীর কোনো সদস্যের ‘অস্বাভাবিক’ কিছু ঘটলে নিজস্ব তদন্ত হয় জানিয়ে জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, ‘সেটা আমাদের ডিপার্টমেন্টাল প্রয়োজন। আমরাও সে ধরনের একটা তদন্তের নির্দেশ সঙ্গে সঙ্গে দিয়েছিলাম, তদন্ত হচ্ছে।’ আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সরকারকে কোনো সুপারিশ দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। কারণ এ ঘটনার পরপর সরকারের পক্ষ থেকে একটি যৌথ তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। এ তদন্ত টিমের প্রতি সেনাবাহিনী এবং আমি নিশ্চিত পুলিশ বাহিনীরও সমর্থন রয়েছে। এ তদন্ত দল সরকারকে যেটা উপযুক্ত মনে করবে তারা সুপারিশগুলো করবে। এখানে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সুপারিশ করার সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না। কারণ এখানে একটা যৌথ টিম গঠন করা হয়েছে এবং সেখানে আমাদের সেনাবাহিনীরও সদস্য আছে। সুতরাং আলাদাভাবে সুপারিশ করার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।’

আইএসপিআরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, দেশের প্রতি বিশেষ অবদানের জন্য গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক ইউনিটসমূহকে রেজিমেন্টাল কালার দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬ সিগন্যাল ব্যাটালিয়ন, ১৮ বীর, ২০ বীর, ২১ বীর, ২২ বীর ও ২৩ বীর গতকালের কালার প্যারেডে অংশ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিমেন্টাল পতাকা গ্রহণ করে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ সবাইকে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা, পারস্পরিক বিশ্বাস, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রেখে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সুশৃঙ্খল, দক্ষ ও যোগ্য সেনাসদস্য হিসেবে গড়ে ওঠার নির্দেশ দেন। এছাড়া তিনি সবাইকে পেশাদারিত্বের প্রত্যাশিত মান অর্জনের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় সদা প্রস্তুত থাকতেও নির্দেশ দেন।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: