সিলেটে জোড়া খুন, মাকে ধর্ষণ করতেই ছেলেকে হত্যা!

ডেস্ক রিপোর্টঃ মাকে ধর্ষণের করতেই মা-ছেলে দু’জনকে অপহরণ করে হত্যা করেছে চার ঘাতক। মাকে ধর্ষণের সাক্ষী না রাখতে ছেলেকেও গলাটিপে হত্যা করে এই ঘাতকরা।

আটকের পর মঙ্গলবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সিলেটের আমল গ্রহণকারী প্রথম আদালতের বিচারক নজরুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে আটক ৩ আসামি এ কথা স্বীকার করেছেন।

আটককৃতরা হলেন- ওসমানীনগরের পশ্চিম পৈলনপুরের জবেদ আলীর ছেলে জকরুল মিয়া (২২), বদিয়ারচরের মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে নজরুল ইসলাম (২৭) ও মৃত আবুল কালামের ছেলে জয়নাল মিয়া (২৯)।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ওসমানীনগর থানার ওসি (তদন্ত) মাঈন উদ্দিন বলেন, গত ১৭ মার্চ রাতে ওসমানীনগর উপজেলার ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র গোয়ালাবাজার থেকে ৪ দুর্বৃত্ত হবিগঞ্জের মাধবপুরের মালাকারপাড়ার মৃত অমিত মালাকারের স্ত্রী দীপু মালাকার (৪০) ও তার ছেলে বিকাশ মালাকারকে (৮) অপহরণ করে। পরে অটোরিকশা দিয়ে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় একারাই হাওড়ে। রাতভর হাওরে দীপু মালাকারকে ধর্ষণ করে। এ সময় ছেলে অমিত মালাকার দেখে ফেললে তাকে গলাটিপে হত্যা করে। ধর্ষণ শেষে দীপু মালাকারকেও হত্যা করে কচুরীপানা দিয়ে চাপা দিয়ে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়।

এর কয়েকদিন পর লাশ পচে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়রা পুলিশকে জানান। পুলিশ অজ্ঞাত লাশ হিসেবে উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে। পরে নিহতদের পরিচয় সনাক্ত হয়। এ ঘটনায় ২৬ মার্চ ওসমানীনগর থানায় মামলা হয়। মামলার তদন্তভার পড়ে ওসি (তদন্ত) মাঈন উদ্দিনের উপর। ক্লুলেস এ মামলার রহস্য উদঘাটনে সোর্স নিয়োগ করেন তিনি। বিশ্বস্ত সোর্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সোমবার রাত ৩টার দিকে ওসমানীনগরের বদিয়ারচর থেকে অপহরণ, ধর্ষণ ও জোড়া খুনে জড়িত ৩ জনকে আটক করে পুলিশ। প্রথমে তারা বিষয়টি অস্বীকার করলেও পুলিশের কৌশলী জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপহরণ, ধর্ষণ ও জোড়া খুনে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: