কাষ্ঠল চিরহরিৎ উদ্ভিদ বাঁশ আসলে ঘাস পরিবারের সদস্য। ঘাস পরিবারের এরা বৃহত্তম সদস্য। বাঁশ গাছ সাধারণত একত্রে গুচ্ছ হিসেবে জন্মায়। এক একটি গুচ্ছে ১০-৭০/৮০ টি বাঁশ গাছ একত্রে দেখা যায়। এসব গুচ্ছকে বাঁশ ঝাড় বলে। আবার মানুষকে উপহাস করতেও এই ‘বাঁশ’ এর জুড়ি নেই। আবার অন্যদিকে আমাদের দেশের পাহাড়ি অঞ্চলে বাঁশ খুবই সুস্বাদু একটি খাবার। বাঁশকে বলা হয় মিরাকল প্ল্যান্ট। কারণ এর রয়েছে প্রভূত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করে বিপুল পরিমাণ আয় ও কর্মসংস্থান করা সম্ভব।

বাঁশের কোড়ল বা ব্যাম্বু শুট পাহাড়ে বসবাসকারী আদিবাসী জনগোষ্ঠির একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় সবজি যার বহুবিধ ঔষধীগুণ ও রয়েছে। বাঁশের কোড়ল হল বাঁশগাছের কচি কান্ড মুকুল যার বয়স ২ সপ্তাহ হওয়ার আগে অথবা উচ্চতা ১ ফুট হওয়ার আগে সবজি হিসেবে তুলে নিতে হবে। এর মুচমুচে টেক্সচারের জন্য অনেক মানুষ এটি খেতে পছন্দ করেন। এর মধ্যে একটি মিষ্টি গন্ধও আছে। এশিয় দেশগুলি যেমন জাপান, কোরিয়া , চিন, থাইলাযান্ড, ফিলিপাইন্স, নেপাল সহ ভারতের কিছু কিছু জায়গার মানুষ এটিকে অনেকদিন ধরেই সবজি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। বাঁশের কোড়লে প্রচুর পরিমানে নানান পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান। আবার এটিতে ক্যালোরী ও ফ্যাটের পরিমান খুবই কম। তাছাড়া এই সবজিতে আছে প্রচুর ফাইবার বা তন্তু।

চলুন এবার জেনে নেই কেন সুস্থ থাকতে ‘বাঁশ’ কেন খাবেন। প্রথমে জেনে নেই এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে। তাজা বাঁশের কোঁড়লে ৮৮-৯৩% পানি, ১.৫-৪% প্রোটিন, ০.২৫-০.৯৫% চর্বি, ০.৭৮-৫.৮৬% চিনি, ০.৬০-১.৩৪% সেলুলোজ এবং ১.১% খনিজ পদার্থ আছে। এতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিনও বিদ্যমান।

উপকারিতা: বাঁশের কোড়ল বা ব্যাম্বু শুট এর নানা উপকারীতা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখ করার মত:

১. ওজন কমাতে সহায়তা করে – বাঁশের কোড়লে ক্যালোরী ও ফ্যাটের পরিমান অত্যন্ত কম থাকে আর তন্তুর পরিমান বেশি থাকে। যারা নিজেদের অতিরিক্ত ওজন কমাতে চান তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ খাবার। এতে উপস্থিত তন্তু পেট ভর্তি রাখে আর খিদে কমায়।

২. ক্যানসার প্রতিরোধী – এতে উপস্থিত ফাইটোনিউট্রিয়েন্টসগুলি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ, যা শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। এই অক্সিডেটিভ স্ট্রেস আমাদের শরীরের কোশে অবস্থিত ক্রোমোজোমের DNA গুলির ক্ষতি সাধন করে ক্যানসার ঘটায়। এতে উপস্থিত সামান্য পরিমান ক্লোরোফিল কোশের মিউটেশনে বাঁধা দিয়ে ক্যানসার প্রতিরোধ করে।

৩. বাঁশের কোঁড়ল দেহে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। এটি উচ্চ রক্তচাপ কমায় ও ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমায়। কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর করতে বাঁশের জুড়ি নেই। তাছাড়া হাঁপানী, ডায়াবেটিস, তীব্র জ্বর, মৃগি রোগে মূর্ছা যাওয়া ইত্যাদি নিরাময়েও যথেষ্ট অবদান রাখে বাঁশ।