গত কয়েকদিন ধরে কাশ্মীরে জারি ছিল ১৪৪ ধারা। বাড়ি থেকে বেরতে পারেননি কেউ। অবশেষে শুক্রবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই নমাজ পড়লেন কাশ্মীরের মুসলিমরা।

শুক্রবারের নমাজের জন্য বিভিন্ন স্থানীয় মসজিদ খুলে দেওয়া হয়েছিল। কাশ্মীরে সেরকম কোনও গণ্ডগোলের খবরও এখনও পর্যন্ত আসেনি। জানা গিয়েছে এদিন ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্বেও মসজিদে যাওয়ার সময় সাধারণ মানুষকে কোনও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়নি।

কাশ্মীর প্রচুর আগেই মোতায়েন করা হয়েছে প্রচুর সেনাবাহিনী। সেখানে নিজে উপস্থিত আছেন অজিত দোভাল। তাঁর নির্দেশেই এদিন সাধারণ মানুষকে মসজিদে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, এদিন জম্মু থেকে ১৪৪ ধারা তুলে নেওয়া হয়েছে। শনিবার থেকে স্কুল-কলেজ খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, কাশ্মীর থেকে স্পেশাল স্টেটাস উঠে যাওয়ার পর থেকেই দেশ জুড়ে জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট। বিমাবন্দরগুলিতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা মোতায়েন করার পর এবার সতর্ক করা হয়েছে নৌবাহিনীকে।

৭৫১৪ কিলোমিটারের উপকূল বরাবর গোটা দেশের বিভিন্ন জায়গায় জারি হয়েছে সতর্কতা। উপকূলের বিভিন্ন জায়গায় জঙ্গি হানার আশঙ্কা রয়েছে বলে গোয়েন্দাসূত্রে খবর।

ভারতীয় নৌসেনার কাছে খবর রয়েছে যে কোনও মুহূর্তে আক্রমণ হতে পারে ভারতের বুকে। এমনই এক নাশকতার ছক রয়েছে পাকিস্তানি জঙ্গিদের। মুম্বই হামলার সময়ও করাচি থেকে জলপথে মুম্বই ঢুকেই হামলা করেছিল পাক জঙ্গিরা। গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, আবারও সেরকমভাবে ভারতের বুকে চরম হামলার রাস্তায় হাঁটছে তারা। এ খবর দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম কলকাতা২৪।

ভারতীয় গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, জইশ ই মহম্মদের জঙ্গিনেতা মাসুদে আজহারের ভাই রউফ আজগর পাক অধিকৃত কাশ্মীরে আনাগোনা বাড়িয়ে দিয়েছে। সেখানে জইশ প্রশিক্ষণের পর পাঞ্জাব সীমান্ত দিয়ে জঙ্গিদের ভারতে প্রবেশ করানোর ছকে রয়েছে রউফ। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে জলপথে জঙ্গিরা ঢুকবে। কেন্দ্রের হাতে এই তথ্য আসতেই জারি হয়েছে সতর্কতা। পূর্বও পশ্চিম উপকূলে জারি সতর্কতা। নৌসেনা রয়েছে হাই অ্যালার্টে।