এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন শাখা কমিটির নেতৃত্বে আসার জন্য পদ প্রত্যাশীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা ও আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে গড়া এ সংগঠনের নেতৃত্বে আসতে চাইলে ‘কারাগারের রোজনামচা’ ও ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটি ভালো করে পড়ার জন্য মন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। মন্ত্রীর এ নির্দেশনার কথা পদ প্রত্যাশীদের জানিয়ে দিয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগ নেতারা। নেতা নির্বাচনের জন্য ব্যতিক্রমী এই পরীক্ষার মাধ্যমে একটি নতুন অধ্যায়ের সৃষ্টি হতে যাচ্ছে বলে করছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আখাউড়া উপজেলার মেয়াদোত্তীর্ণ ধরখার, মনিয়ন্দ ও মোগড়া ইউনিয়নসহ কয়েকটি ইউনিয়ন শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে। এখনও সম্মেলনের দিন-তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। তবে আইনমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন-আদর্শ সম্পর্কে ভালো করে জেনে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসতে হবে। এ জন্য ওই ইউনিয়নগুলোতে পদ প্রত্যাশীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন মন্ত্রী। উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাদের মাধ্যমে মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ‘কারাগারের রোজনামচা’ ও ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বই পড়া শুরু করেছেন পদপ্রত্যাশীরা। ওই দুইটি বই থেকেই পরীক্ষায় প্রশ্ন আসবে বলে পদপ্রত্যাশীদের জানানো হয়েছে। মন্ত্রী আনিসুল হকের উপস্থিতিতেই পরীক্ষা নেয়া হবে বলে জানা গেছে।

লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেয়ার পর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকেই নেতা নির্বাচিত করা হবে। নেতৃত্ব বাছাইয়ে পরীক্ষার বিষয়টিকে ভালোভাবেই নিয়েছেন নেতাকর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে। পাঁচটি ইউনিয়ন ও জংশন শাখা সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসেবে সভাপতি ও সম্পাদক পদ প্রত্যাশীদের মধ্যে ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ৪০টি ফরম বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আখাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহবুদ্দিন বেগ শাপলু জাগো নিউজকে বলেন, আমরা সৃজনশীল পদ্ধতিতে লিখিত পরীক্ষা নেব। পাশাপাশি মৌখিকও নেয়া হবে। সব মিলিয়ে ৬০ নম্বরের পরীক্ষা হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, অনেকেই বঙ্গবন্ধুর জীবন-আদর্শ সম্পর্কে জানে না। নেতা নির্বাচনের জন্য পরীক্ষার মাধ্যমে তারা বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানতে পারবেন-শিখতে পারবেন। ‘কারাগারের রোজনামচা’ ও ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইয়ের ওপরই আমরা পরীক্ষা নেব। এই পরীক্ষার মাধ্যমে একটি নতুন অধ্যায় সৃষ্টি হবে।