মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ক্ষুদ্র সবজি ব্যবসায়ী খাইরুল ইসলাম খবিরের (৪৬) ঘরের মাচায় রয়েছে ৬ মণ কয়েন। যার আর্থিক মূল্য ৬০ হাজার টাকা। মহম্মদপুর বাজারে দীর্ঘ ২৫ বছর যাবৎ সবজি ব্যবসা করে তিনি গুছিয়েছেন এসব কয়েন।

প্রথম দিকে শখের বশে ও সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে এসব কয়েন জমালেও এখন এগুলো তার গলার কাঁটা। চার আনা, আট আনা, এক টাকা ও পাঁচ টাকার কয়েনসহ পুরোনো দিনের পাঁচ পয়সা, দশ পয়সার কয়েন মিলিয়ে প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের কয়েনগুলো নিয়ে চরম অসুবিধায় পড়েছেন এই ব্যবসায়ী।

খাইরুল ইসলাম খবির বলেন, তিনি প্রায় ২৫ বছর যাবৎ মহম্মদপুর বাজারে সবজির ব্যবসা করছেন। সে সুবাদে তার কাছ থেকে অনেকেই বিভিন্ন অংকের কয়েন দিয়ে সবজি ক্রয় করে নিয়ে যান। তিনি এসব কয়েন প্রথমে সঞ্চয়ের জন্য মাটির ব্যাংকে গুছিয়ে রাখতেন ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে। কিন্তু বর্তমানে এসব কয়েনের প্রচলন বেশি না থাকায় তিনি চরম অসুবিধায় পড়েছেন।

খবির বলেন, তার ব্যবসার মূলধনের চার ভাগের দুই ভাগই কয়েনের মধ্যে আটকে রয়েছে। ফলে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতে হিমসীম খেতে হচ্ছে তাকে।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কয়েনগুলো নিয়ে তিনি বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে গেলেও বিপুল পরিমাণ এ কয়েন নিতে চাচ্ছেন না কেউ। বর্তমানে লেনদেনে ধাতব মুদ্রার ব্যবহার নেই বললেই চলে।

মহম্মদপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মোফাজ্জেল হোসেন জানান, খবির দীর্ঘদিন ধরে এই বাজারে সবজির ব্যবসা করছেন। সে সুবাধে তার কাছে অনেক কয়েন মজুত আছে। সেগুলো তিনি এখন কাগজের টাকায় পরিণত করতে চান। বিষয়টি নিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলেও শুনেছি।

এ ব্যাপারে মাগুরা সোনালী ব্যাংকের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) রশিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তার জানা নাই। তবে ওই ব্যবসায়ী যদি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাহলে বিষয়টিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোতি সাপক্ষে প্রয়োজনীয় কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: