ডেস্ক রিপোর্টঃ বর্তমানে পরকীয়ার ঘটনা প্রায়ই শোনা যায় সেটা আবার বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার তুলেও ধরা হয়। সমাজে অসম্ভব হারে বাড়ছে এই অনৈতিক সম্পর্ক। এটা যেন দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। তাই তো এই রকম সম্পর্কে কখনো স্বামী, কোনো স্ত্রী বাধা হয়ে দাঁড়ালে পথের কাঁটা ভেবে তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

সম্প্রতি এমনই একটি পরকীয়া ঘটনা ঘটেছে খুলনা আড়ংঘাটা দক্ষিণপাড়ার। তা হলো- জাহিদুল ইসলাম সানা নামের এক ব্যক্তি নারী সেজে প্রেমিকার সঙ্গে সাক্ষাত করতে আসেন। স্বামীর অবর্তমানে দীর্ঘদিন ধরে সন্তানের গৃহশিক্ষকের সাথে অবাধে চলছিল অবৈধ এ প্রেমলীলা। গত শুক্রবার নারী সেজে গৃহশিক্ষক জাহিদুল ইসলাম সানা প্রেমিকার কাছে আসে। কিন্তু কথায় আছে না ১০ দিন চরের, আর ১ দিন গিরস্তের। স্বামী শাহাবুদ্দিন হাতেনাতে ধরে ফেলে স্ত্রী-সন্তানের গৃহশিক্ষকের পরকীয়ার বিষয়টি।

এ ঘটনার পরে স্থানীয় গণ্যমান্য সন্মানিত ব্যক্তি বর্গদের সহায়তায় সালিসি বৈঠকে মীমাংসার চেষ্টা হয়। কিন্তু মীমাংসা না হওয়ায় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

অন্য আরেকটি পরকীয়ার গল্প। মানিকতলার মো: জাহাঙ্গীর হোসেন খানের মেয়ে সোনিয়ার সঙ্গে হাফিজুর রহমানের বিয়ে হয় ২০০৬ সালে। বিয়ের মাত্র ৬ মাস পর হাফিজুর বিদেশে চলে যান। আর এ সময় স্বামীর অনুপস্থিতিতে সোনিয়ার চলাফেরা উচ্ছৃঙ্খল হতে থাকে। জানা যায়, সোনিয়া বিভিন্ন যুবককের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। দেশে আসার পর বিষয়টি জানতে পারেন স্বামী হাফিজুর রহমান। এরপর তিনি স্ত্রীকে শোধরানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি তাতে ব্যর্থ হয়। এক পর্যায় হাফিজুর রহমান স্ত্রী সোনিয়াকে তালাক দেন।

এরপর তাদের শিশুসন্তান হাসমি থেকে যায় পিতা হাফিজুরের সঙ্গে। হাসমিকে তার পিতার কাছ থেকে অপহরণের জন্য সোনিয়া বখাটেদের সঙ্গে পাঁচশত টাকা ও এর সঙ্গে ওই বখাটেদের সাথে অনৈতিক কাজের চুক্তি হয় সোনিয়ার। ২০১৬ সালের ৬ জুন রাত পৌনে ৯টার দিকে শিশুসন্তান হাসমিকে অপহরণ করে তার মায়ের কাছে নিয়ে আসে সন্ত্রাসীরা। এরপর চুক্তি অনুযায়ী সরদারডাঙ্গা বাগানের (বাঁশঝাড়)’র মধ্যে অপহরণকারীরা সোনিয়ার সঙ্গে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়।

এ সময় হাসমি ঘটনা দেখে ফেলায় সোনিয়ার সামনেই হাসমিকে হত্যা করে অপহরণকারীরা। হত্যার পর লাশ গুমের জন্য রাতেই সিমেন্টের বস্তায় ভরে বাইপাস সড়ক সংলগ্ন সরদারডাঙ্গা বিলের মধ্যে ফেলে দেয়া হয়।

এই নির্মম হত্যার পর ৯ জুন সকালে বাইপাস সড়ক সংলগ্ন সরদারডাঙ্গা বিলের মধ্যে থেকে সিমেন্টের বস্তাবন্দি অবস্থায় হাসমির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সন্তান হত্যার এ ঘটনায় হাসমির পিতা হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে হত্যা ও লাশ গুমের মামলা করেন। বিচার কার্যক্রম শেষে গত বছরের ২৯ আগস্ট হাসমি হত্যা মামলার রায়ে মা (সোনিয়া) সহ ৪ আসামিকে ফাঁসির আদেশ দেন মহামান্য আদালত।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: