রাজধানীর কলাবাগানে অবস্থিত ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল মাস্টারমাইন্ডের ‘ও’ লেভেল পড়ুয়া ছাত্রী আনুশকাহ নূর আমিনকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আনুশকাহ’র বয়ফ্রেন্ড দিহানসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।ফারদিন ইফতেখার দিহান নামের এক তরুণকে আসামি করে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মামলাটি করেছেন ওই ছাত্রীর বাবা।

মামলার বিষয়টি আজ শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন কলাবাগান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আ ফ ম আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ওই শিক্ষার্থীর বন্ধু দিহানকে একমাত্র আসামি করে তার বাবা বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। আমাদেরও ধারণা, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকেও তেমন রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। কারণ, ধর্ষণের পর তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে দিহান।

এর আগে, বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কলাবাগানের ডলফিন গলির এক বাসায় রাজধানীর ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর এক সহপাঠীকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, আটক ফারদিন ইফতেখার দিহান গ্রুপ স্টাডির কথা বলে তাকে বাসায় ডেকে নেয়। পরে অসুস্থতার কথা বলে দিহান নিজেই গাড়ি চালিয়ে ওই ছাত্রীকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে নেয়। ডাক্তাররা জানান, তার আগেই ওই ছাত্রী মারা যায়। অভিযুক্তরাই পুলিশকে ফোন দিয়ে এ ঘটনার কথা জানায়। পরে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের হেফাজতে নেয়া হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বলেন, আমার মেয়ের এ বছর ও লেভেল পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল। পরীক্ষার সাজেশন দেয়ার কথা বলে ওকে ডেকে নিয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, ওরাই আমাকে ফোন দিয়ে বলেছে আন্টি ও (ভূক্তভোগী) অসুস্থ। তখন আমি বলেছি ভালো মেয়ে গেল, অসুস্থ কীভাবে হয়েছে। বলেছে আমাদের সঙ্গেই ছিল তবে এখন সেন্সলেস হয়ে পড়েছে। পরে ওরাই আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল এ নিয়ে যায়। আমি হাসপাতালে পৌঁছার আগেই আবার ফোন দিয়ে বলে ও (ভূক্তভোগী) মারা গেছে। হাসপাতালে গিয়ে দেখি মেয়েটার প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: