জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার মিজানুর রহমান আজহারী বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা নিয়ে ও তাকে যারা খুন করেছেন তাদেরসহ তরুণদের নিয়ে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন মানুষকে নৈতিক মূল্যবোধ ও সঠিক পরিচর্যায় প্রকৃত মানুষরূপে গড়ে তোলার। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের স্ট্যাটাসটি অনলাইন পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘মানুষকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ। যথাযথ শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও সঠিক পরিচর্যা পেলে মানুষ মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়। জনসংখ্যা হয় জনশক্তি। রুপান্তরিত হয় মানবসম্পদে। আর যথাযথ শিক্ষা ও পরিচর্যার অভাবে এই মানুষগুলোই হয়ে ওঠে সমাজের বোঝা, উচ্ছৃঙ্খল, পাপাচারী, হিংস্র, এবং পাশবিক প্রকৃতির। নতুন আঙ্গিকে ইসলামের ছোঁয়া পেয়ে আজ বাংলাদেশে অনেক তরুণ-তরুণী সময়মতো সালাত আদায় করে, হারাম রিলেশনশিপ বাদ দিয়ে বৈধ বিয়ের পথ খুঁজে, উদ্যোক্তা হয়ে হালাল উপার্জনের চেষ্টা করে এবং সুন্দর সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখে। আর এই ছেলেগুলোই হেরার আলোর এ জ্যোতির্ময় ছোঁয়া না পেলে হয়ত কিশোর গ্যাং তৈরী, চাঁদাবাজি, মাস্তানি, ইভটিজিং ইত্যাদি করে বেড়াতো। তারমানে, আদতে কোনো মানুষই খারাপ নয়। দরকার যথাযথ পরিচর্যা ও দিকনির্দেশনা।

যেমন ধরুন, আবরার ফাহাদ যেমন মেধাবী ছাত্র ছিল, তেমনিভাবে ফাঁসি ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ২৫ জন আসামিও আবরারের মত মেধাবী ছিল। এতো মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের অভাবে তাদের মতোই আরেকজন শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা করতে তাদের বুক কাঁপেনি। তাদের বাবা-মায়েরা হয়তো কখনও বুঝতেই পারেনি যে তাদের সন্তান এরকম একজন খুনি সত্তা হয়ে বেড়ে উঠছে। তাই, জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রুপান্তর করতে, অভিভাবক, শিক্ষকমণ্ডলী এবং সরকার, সবাইকে নতুন করে ভাবতে হবে। দেশে প্রায় ৩ কোটি তরুণ-তরুণী। মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষায় উজ্জীবিত করতে না পারলে, যতো শিক্ষিতই হোক না কেন, তরুণ প্রজন্ম এভাবে নানা বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়বে। নষ্ট করবে তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। বারবার পিছিয়ে পড়বে আগামীর বাংলাদেশ।’

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: