ডেস্ক রিপোর্টঃ ইয়াবা কারবারের অভিযোগে বহুল বিতর্কিত কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়া আসনের এমপি আবদুর রহমান বদি দেশ ছেড়েছেন বলে তথ্য মিলেছে। বলা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি ঢাকা ছেড়ে যান। দেশে চলমান ইয়াবাসহ মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান চলার মধ্যেই খবরটি এলো। অনেকেই বলছেন, বদি আর সহজেই দেশে ফিরছেন না। বদির খালাতো ভাই আরেক বিতর্কিত ব্যক্তি মং মং সেনও গোপনে মিয়ানমার পাড়ি জমিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে। মং মং টেকনাফ সীমান্তের ইয়াবা, হুন্ডি ও স্বর্ণ চোরচালানের ডন হিসেবে পরিচিত এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত কারবারি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ চোরাচালানি ও ইয়াবার গডফাদার মং মং সেন আগে অন্তত দুবার গ্রেপ্তার হন এবং ছাড়া পেয়ে যান।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উখিয়া-টেকনাফ সংসদীয় আসনের এমপি আবদুর রহমান বদি সাহেব সৌদি আরব গেছেন। তিনি আমাকে বলেছেন, পবিত্র ওমরাহ হজ পালন করবেন।’

এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত রবিবার রাতে একরামের জানাজায় অংশ নেওয়ার পর আর বদিকে এলাকায় দেখা যায়নি। গতকাল কক্সবাজারের আরেক আলোচিত বিষয় হচ্ছে বদির খালাতো ভাই মং মং সেনের মিয়ানমারে যাওয়ার খবরটি। শোনা যাচ্ছে, গতকাল সকাল ৬টার দিকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ নৌঘাট দিয়ে কার্গো ট্রলারে করে তিনি মিয়ানমারে পাড়ি জমান। ট্রলারটি গরু নিয়ে মিয়ানমার থেকে এসেছিল।

টেকনাফ থানার ওসি রঞ্জিত কুমার বড়ুয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মং মং সেনকে ধরতে গতকাল পর্যন্ত তিন দফা অভিযান চালানো হয়। কিন্তু পাওয়া যায়নি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ‘শাহপরীর দ্বীপ দিয়ে তাঁর মিয়ানমারে পালিয়ে যাওয়ার খবর আমরা পাইনি।’

এমপি বদির পিতা প্রয়াত এজাহার মিয়া কম্পানির একাধিক স্ত্রীর মধ্যে একজন ছিলেন মিয়ানমারের রাখাইন জাতি-গোষ্ঠীর। সেই স্ত্রীর বোনের ছেলে মং মং সেন। অর্থাৎ আবদুর রহমান বদির সত্ভাই মো. ফয়সালের মা ও মং মং সেনের মা আপন বোন। মং মং-এর বাবার নাম অং সেন তা। ২০১৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর ১০ হাজার ইয়াবাসহ মং মং সেনকে টেকনাফ থানা পুলিশ আটক করে। চার-পাঁচ মাস জেল খেটেই তিনি জামিনে ছাড়া পেয়ে যান। এরপর ২০১৬ সালে মার্চে মং মং ধরা পড়েন চোরাইয়ের সাড়ে ৯ কেজি স্বর্ণ ও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থসহ। এবারও মং মং বেরিয়ে আসেন।

জানা গেছে, দেশব্যাপী ইয়াবাসহ মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর ভীত হয়ে পড়েন মং মং সেনসহ অনেকে। বিশেষ করে টেকনাফ সীমান্তের ইয়াবা কারবারি আকতার কামাল মেম্বার এবং পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ার পর সীমান্তের কারবারিরা যে যেদিকে পারছে পালাচ্ছে। ইয়াবা সাম্রাজ্যের আরেক ডন হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সাবেক বিএনপি নেতা ও বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতা জাফর আহমদও কয়েক দিনের মধ্যে সৌদি আরব পাড়ি জমাতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

টেকনাফ সীমান্তের ইয়াবা কারবারি হিসেবে তালিকাভুক্ত আরো অনেকেই ওমরাহ হজসহ নানা অজুহাতে বিদেশ পাড়ি দিয়েছে বা দিচ্ছে।

সূত্রঃ কালের কণ্ঠ

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: