কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভীড়

সাপ্তাহিক ছুটি ও বিজয় দিবসসহ টানা তিনদিনের ছুটি পাওয়ায় পর্যটকদের ভীড় জমছে পর্যটন শহর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতসহ সব পর্যটন স্পটে। এতে করে পর্যটন সংশ্লিষ্ট অর্থনীতি লোকসান কাটিয়ে উঠার ব্যাপক সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। করোনা সংক্রামণরোধে দীর্ঘদিন কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ও বিনোদনকেন্দ্রগুলো বন্ধ ছিল। এখন করোনা নেই, চমৎকার আবহাওয়া। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষাও শেষ। এখনই কক্সবাজারে বেড়ানোর সুযোগ। এই সুযোগে সব শ্রেণী-পেশার পর্যটকরা কক্সবাজার ভ্রমণে আসছেন। বিজয় দিবসের এই ছুটিতে কক্সবাজারে মৌসুমের সর্বোচ্চ পর্যটক সমাগম হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিন দেখা গেছে, সৈকতের বিনোদন পয়েন্টগুলোতে শত শত ছাতা-চেয়ার সাজিয়ে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কিটকট ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন পয়েন্টে টিউব ও স্পিডবোট দিয়ে পর্যটকদের সাগরে গোসল করতে এবং সাঁতার কাটতে সহযোগিতা দিয়ে আনন্দ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে, যে যার মতো করে সৈকতে ঘোরাফেরা করছেন, দূরত্ব মানা হচ্ছে না। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয়দের পদচারণায় মুখর সৈকত। এছাড়াও মেরিন ড্রাইভ সড়ক, হিমছড়ি, দরিয়ানগর, ইনানীর পাথুরে সৈকত, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, রামুর বৌদ্ধ বিহারসহ জেলা পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে অসংখ্য পর্যটকদের ভিড়।

অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান টেকনাফের প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমণে গেছেন বিপুল সংখ্যক ভ্রমণ পিপাসু। প্রতিদিনই যাতায়াত করছে অন্তত ৩ হাজার পর্যটক। তবে এসব পর্যটন কেন্দ্রে করোনা সংক্রমণ রোধে ট্যুরিস্টসহ প্রশাসন নানা ব্যবস্থা ও উদ্যোগের কথা জানালেও কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। অধিকাংশ পর্যটকদেরই মুখে মাস্ক নেই। মানা হচ্ছে না শারীরিক দূরুত্ব বজায় রাখাসহ স্বাস্থ্যবিধি নির্দেশ। এ নিয়ে কক্সবাজার আবারো করোনা সংক্রমণের হট স্পটে পরিণত হবার আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নরসিংদীর আক্তার উদ্দিন দম্পতি জীবনের প্রথম বার এসেছেন কক্সবাজারে। তিনি জানান- এই প্রথমবার এসে কক্সবাজারকে দেখলাম। এক সঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক মানুষ আর দেখিনি। সৈকতে এত বেশি মানুষ দেখে মনে হচ্ছে এটা ঢেউয়ের সমুদ্র নয় যেন মানুষের সমুদ্র।নারায়ণগঞ্জের রিজভী আহমদ বলেন, এতদিন করোনার কারণে ঘরে বন্দি জীবন কাটিয়েছি। সাগর পাড়ে এসে মনে হচ্ছে, এখন আমরা মুক্ত পাখির মতো উড়ছি আর ঘুরছি।

কুমিল্লার বিশ্বরোড পদুয়ার বাজার এলাকার সরোয়ার হাসান শামীম বলেন, সৈকতে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রতি কারো লক্ষ্য নেই। নেই কোনো দূরত্ব। হয়তো লবণাক্ত হাওয়ায় ভাইরাস দুর্বল থাকবে এ চিন্তায় সবাই নির্লিপ্ত। পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, করোনার পর থেকেই দেশের নানা প্রান্ত থেকে কোনো শিক্ষা ট্যুরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ভীড় হয়নি। কক্সবাজারে আসেনি এবার কোনো কর্পোরেট পিকনিক দল। দেশে করোনার সংক্রমণ হ্রাস পাওয়ায় মানুষের মধ্যে করোনা ভীতি কেটেছে। সেই সঙ্গে ভ্যাকসিন আসার পর সাহস বেড়েছে করোনা ভীতিতে কাতর লোকজনের মধ্যে। এসব কারণে বছরের শেষ দিকে মৌসুমের শুরুতে নাগালে পাওয়া তিন দিনের ছুটিতে এভাবে লোকজন বেড়াতে ছুটে এসেছে।

কক্সবাজারে এত বিপুলসংখ্যক পর্যটক এসে ভিড় জমিয়েছেন যে, ছোট্ট শহরটির সাড়ে চার শতাধিক হোটেল-মোটেল ও কটেজে তিল ধারণেরও জায়গা নেই। স্থানীয়রা বলছেন, গত কয়েক বছরের মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক পর্যটকের সমাগম ঘটেছে কক্সবাজারে। কক্সবাজারে আসা-যাওয়ার যানবাহন ও বিমানেও গত সপ্তাহ থেকে শুরু করে আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত কোনো টিকেটই মিলছে না।

হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির নেতা আলহাজ্ব আবুল কাশেম সিকদার বলেন, বিজয় দিবস উপলক্ষে সাপ্তাহিক ছুটির সাথে অতিরিক্ত ছুটিতে কক্সবাজারে ব্যাপক পর্যটক এসেছেন এবং আসছেন। এই পর্যটক সামাল দিতে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সাথে হোটেল মোটেল মালিক সমিতি ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে তারকা মানের হোটেল দ্যা কক্সটুডের ম্যানেজার মো. লোকমান হোসাইন অপু বলেন, পর্যটক ভালোই আসছেন। তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে হয়রানীর বিষয়টি নজরে আনা দরকার। হোয়াইট অর্কিড হোটেলের জিএম রিয়াদ ইফতেখার বলেন, দীর্ঘদিন পর পর্যটন খাত খোলায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও ভ্রমণপিপাসুদের মধ্যে ঈদের আমেজ বিরাজ করছে। প্রথম প্রথম জনমনে ভীতি থাকলেও এখন সেটা কাটিয়ে পর্যটকদের মোটামুটি সাড়া মিলছে। মৌসুমের শেষ পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকলে পুরোনো ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠা যাবে বল আশা করা যায়।

টুরিস্ট পুলিশের কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান বলেন, করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে হোটেলে ৫০ শতাংশের অধিক কক্ষ ভাড়া না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। সঠিকভাবে স্বাস্হ্যবিধিসহ সরকারের দেওয়া নির্দেশনা না মানলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর ঘোষণা থাকলেও পর্যটন কেন্দ্র বলে প্রশাসন একটু নমনীয়। একে সম্মান জানিয়ে, পর্যটকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে ব্যাপক পর্যটক আগমনের সুযোগে কক্সবাজারের বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটক হয়রানি খবরও জানা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন হোটেল এবং পরিবহন সংস্থাগুলো পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। এমনকি হোটেল-রেস্টুরেন্টে কয়েক গুণ বেশি টাকা আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন কয়েক জন পর্যটক।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, স্বাস্থ্যবিধি সবার মানা প্রয়োজন। সামাজিক দূরত্বের পাশাপাশি স্যানিটাইজার ও মুখে মাস্ক পরা অবশ্য দরকার। সৈকত এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি সচেতনতায় নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। প্রয়োজনে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া আছে। তিনিও পর্যটকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে বালিয়াড়িতে নামতে অনুরোধ জানান।

     আরো পড়ুন....

পুরাতন খবরঃ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  

ফেসবুকে আমরাঃ