নারায়ণগঞ্জের মুগড়াপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কাজী নাজমুল ইসলাম লিটু। অষ্টম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন কিনেন। মঙ্গলবার (১৭ মে) মনোনয়ন জমা দেয়ার কথা ছিল, কিন্তু কে বা কারা সকালেই খানপুর এলাকার ঘরের দরজার সামনে একটি প্যাকেট রেখে গেছে।

ঘরের দরজার সামনে কাফনের কাপড় পেয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। নাজমুল ইসলাম জাতীয় পার্টির সহযোগী সংগঠন ও যুব সংহতির জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক। নির্বাচনে লড়তে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন।

বুধবার বিকেলে তিনি বলেন, ‘মুগড়াপাড়া ইউনিয়নের নির্বাচনে অংশ নিতে গত ১২ মে উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে স্বতন্ত্র পদে মনোনয়নপত্র কিনে ছিলাম। মঙ্গলবার ফরম জমা দেয়ার কথা ছিল, কিন্তু কে বা কারা সকালেই আমার খানপুর এলাকার ঘরের দরজার সামনে একটি প্যাকেট রেখে গেছে।

‘সেই প্যাকেটটি খুলে দেখি কাফনের কাপড়। এ ঘটনার পর থেকে আমার মাসহ পরিবারের সদস্যরা চিন্তিত হয়ে পড়েন। সন্ধ্যায় আমার ফেসবুক আইডিতে স্থানীয় জনগণকে জানিয়ে দেই, আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।

‘লিটু আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পায় না। আমি মোটেও আতঙ্কিত বা বিচলিত হইনি। তবে আমার পরিবার ও কর্মীদের বিষয় চিন্তা করে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। কারণ ইতিপূর্বে আমি ও আমার কর্মীদের নামে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে।’

এ ঘটনার জন্য কারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করতে পারেননি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাটি যারা ঘটিয়েছে তারা চেয়েছে আমাকে পরিবারিকভাবে দুর্বল করতে। তারা সামনে আরও বড় ধরনের কোনো ক্ষতি করতে পারে ভেবে আমার মা নির্বাচন থেকে সরে যেতে বলেছেন। আমি মায়ের নির্দেশ পালন করেছি।’

সোনাগাঁ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ইউসুফ উর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি আমার জানা নেই। ওই প্রার্থী মনোনয়ন ফরম নিয়েছিলেন, কিন্তু জমা দেননি। এ ঘটনাও আমাদের জানানি। আমরা নির্বাচনের বিভিন্ন কাজ নিয়ে ব্যস্ত, সুতরাং খোঁজ নেয়ার সময়ও হয়নি।’

নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, এ ইউনিয়নে নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সোহাগ রনি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনসহ ছয়জন। ১৫ জুন অষ্টম ধাপে মোগড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: