করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন বা টিকা কুমিল্লায় আসবে আগামীকাল রবিবার। কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডব্লিউআইসি স্টোরেজে ৩১ জানুয়ারি ২ লাখ ৮৮ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. নিয়াতুজ্জামান। এরই মধ্যে ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় গতকাল ভ্যাকসিন পৌঁছে গেছে।এর আগে কুমিল্লা জেলার জন্য ১ লাখ ৩৪ হাজার ১২৫ জনের ভ্যাকসিনের চাহিদা উত্থাপন করা হয়। জনপ্রতি দুটি করে নিতে হলে ২ লাখ ৮৮ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন নিতে পারবে কুমিল্লার ১ লাখ ৪৪ হাজার মানুষ।

সিভিল সার্জন ডা. নিয়াতুজ্জামান কুমিল্লার কাগজকে বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত আমরা নিশ্চিত যে, শুরুতেই আমরা ২ লাখ ৮৮ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন পাবো। রবিবার একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পূর্ণ নিরাপত্তায় ভ্যাকসিনগুলো গ্রহণ করা হবে। ১২০০ ভায়াল (প্রতি ভায়ালে ১০ ডোজ ভ্যাকসিন) থাকে, এমন ২৪ কার্টুন ভ্যাকসিন আমরা পাবো। খুব ভালো লাগছে যে, অবশেষে কুমিল্লায় ভ্যাকসিন আছসে। ভ্যাকসিন পৌঁছানোর পরই আমরা এগুলো বুথে নিয়ে জনসাধারণের মাঝে প্রয়োগের ব্যাপারে পরিকল্পনা নেবো।’

সিভিল সার্জন সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লায় আপাতত সদর হাসপাতাল, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিএমএইচ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিটি কর্পোরেশনের জন্য নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভ্যাকসিন প্রদানের বুথ বসানো হবে। এসব বুথে যারা ভ্যাকসিন প্রদান করবেন, তাদেরকে আগামী রবিবার থেকে প্রশিক্ষণ দেয়াও শুরু হবে।

সিভিল সার্জন নিয়াতুজ্জামান আরো জানান, প্রতিদিন প্রতিটি বুথে ২টি করে টিম কাজ করবে। আরো দুটি টিম স্ট্যান্ডবাই থাকবে। প্রথম দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এছাড়া নার্স ও কমিউনিটি ম্যাডিকেল অফিসারদের এই প্রশিক্ষণের আওতায় এনে করোনা ভ্যাকসিন কর্মসূচি চালিয়ে নেয়া হবে।

এর আগে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি ও ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা কমিটিতে কুমিল্লা জেলার জন্য ১ লাখ ৩৪ হাজার ১২৫ জনের ভ্যাকসিনের চাহিদা উত্থাপন করা হয়। যদিও তা সংশোধনের জন্য পরবর্তীতে একটি উপকমিটিকে দায়িত্ব দেয় জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি।

ফ্রন্টলাইনারদের অগ্রাধিকার দিয়ে ওই তালিকা পুনর্বিন্যাসের জন্য কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ১৭ জানুয়ারি সভায় সিদ্ধান্ত হলেও গত এক সপ্তাহেও নতুন তালিকা তৈরি হয়নি বলে জানান সিভিল সার্জন।

এদিকে কুমিল্লায় ভ্যাকসিন এলে সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং জেলা পুলিশের প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি ভ্যাকসিন কেন্দ্র থেকে গ্রহণ এবং সংরক্ষণের জন্য কাজ করবে বলে জানা গেছে। সিভিল সার্জন জানান, কুমিল্লা জেলাপর্যায়ে যে ভ্যাকসিন ডব্লিউআইসি (ওয়াক ইন কুলার) সংরক্ষণাগার আছে, তাতে ১০ লাখ ডোজেরও বেশি ভ্যাকসিন রাখা যাবে। কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের যে স্টোরেজ আছে, তাতে দুটি ডব্লিউআইসি স্টোরেজ আছে, যেখানে প্রতিটিতে ১ লাখ ৫০ হাজার করে দুটিতে ৩ লাখ করোনা ভ্যাকসিনের ভায়াল সংরক্ষণ করা যাবে। প্রতিটি ভায়ালে ১০টি করে ভ্যাকসিনের ডোজ থাকে। অর্থাৎ এই দুটি স্টোরেজে ১০ লক্ষাধিক ডোজ করোনার ভ্যাকসিন সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে আইস লাইন রেফ্রিজারেটরগুলো (আইএলআর) প্রস্তুত করা হচ্ছে, সেখানেও ভ্যাকসিন রাখা যাবে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে আরো জানা গেছে, কুমিল্লা জেলা থেকে এ পর্যন্ত সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দুই কর্মকর্তা ভ্যাকসিন প্রদানের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। মেডিক্যাল অফিসার অব ডিজিজ কন্ট্রোল এবং মেডিক্যাল অফিসার অব সিভিল সার্জন পদবীর দুজন চিকিৎসা কর্মকর্তা টীকা প্রদানের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। নির্দেশনা পেলে খুব শীঘ্রই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং অন্যান্য টীকা প্রদানকারী কর্মীদের তারা প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করবেন বলেও জানা গেছে।

সিভিল সার্জন জানান, ভ্যাকসিন গ্রহীতারা সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক ফরম পূরণ করেই ভ্যাকসিন নিতে পারবেন। তবে এই নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আলাদাভাবে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: