খালেদা জিয়াও পদ্মা সেতু ব্যবহার করতে পারবেন: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ বলেছেন, খালেদা জিয়া পদ্মা সেতু ব্যাবহার করতে পারবেন। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের জন্য এই সেতু নির্মাণ করেছেন। তাই উনার (খালেদা জিয়া) সেতু ব্যাবহারে কোন বাধা নাই। এসময় তিনি বলেন, চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীরও নির্দ্বিধায় পদ্মা সেতু ব্যাবহার করতে পারেন। বুধবার (২২ জুন) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আ’লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির উদ্যোগে আয়োজিত, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে পদ্মা সেতুর অবদান শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

এ সময় খালেদা জিয়ার বিগত সময়ের একটা বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আ’লীগ সরকার পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পারবে না এমন কথা যারা বলেছিলো, যারা বলেছিল পদ্মা সেতু জোড়াতালি দিয়ে হচ্ছে, এই সেতুতে কেউ উঠবে না তাদেরও এই সেতু ব্যাবহার করার অধিকার রয়েছে। তারা চাইলে নির্দ্বিধায় সেতুতে উঠতে পারেন। তবে আগের বক্তব্যের জন্য আপনারা জনগনের কাছে ক্ষমা চান। হাসান মাহমুদ বলেন, একজন শেখ হাসিনা আছে বলেই আজ দেশের অর্থায়নে নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে পদ্মা সেতু মাথা উচু করে দায়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঠিক রাজনৈতিক নেতৃত্বের কারণেই এই অসম্ভবকে তিনি সম্ভব করেছেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু শুধু মাত্র একটা সেতু নয়। এটা আ’লীগ সরকার ও শেখ হাসিনার শক্তির প্রতীক। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু কেবল একটি সেতু নয়। এটা বিশ্ববেনিয়াদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার এবং সবার ওপরে শেখ হাসিনার সক্ষমতার প্রতীক। বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ববেনিয়ারা, বাংলাদেশে তাদের সুবিধাভোগীরা এবং বিএনপি-জামায়াতসহ আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ পদ্মা সেতু নিয়ে সমালোচনা-ষড়যন্ত্র করেছিল। তাদের ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে শেখ হাসিনা দেখিয়ে দিয়েছে। বিএনপির এখন লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে গেছে। কী বলে লজ্জা রক্ষা করা যায় সেটি খুঁজে পাচ্ছে না। কিন্তু বিএনপিকে পদ্মা সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রধানমন্ত্রী অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করেছেন। ১৯১০ থেকে ১৯১৫ সালের মধ্যে নির্মিত হার্ডিঞ্জ ব্রিজ আজকে নির্মাণ করতে স্বর্ণমূল্য হিসেবে লাগত ১৭ হাজার ৩৫ কোটি টাকা। হার্ডিঞ্জ ব্রিজের দৈর্ঘ্য হচ্ছে ১.৮ কিলোমিটার। পদ্মা সেতু তার চেয়ে সাড়ে তিনগুণ বড় অর্থাৎ ৬.১৫ কিলোমিটার। সে হিসাবে পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে লাগত ৫৮ হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা। তিনি বলেন, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ হচ্ছে শুধু রেল সেতু। পদ্মা সেতুর ওপরে চার লেনের সড়ক, নিচে রেল। অর্থাৎ এই সেতু নির্মাণে ১ লাখ হাজার কোটি টাকা লাগার কথা ছিল। সুতরাং, আজ যারা পদ্মা সেতুর ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাঁদের বলব- অহেতুক প্রশ্ন তুলবেন না। পদ্মা সেতু নির্মাণে শেখ হাসিনা কমপক্ষে ২০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করেছেন।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাহাব উদ্দিন চুপ্পুর সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড. আবুল বারকাত, বুয়েটের অধ্যাপক ড. খান মাহমুদ আমানত, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

     আরো পড়ুন....

পুরাতন খবরঃ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

ফেসবুকে আমরাঃ