ডিভোর্স না নিয়ে অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগে মামলায় ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মিসহ তিনজনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ সোমবার (২০ ডিসেম্বর) ঢাকার অ্যাডিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন তাদের জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

ডিভোর্স পেপার ছাড়াই অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগে মামলাটির অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল আজ। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী অভিযোগ গঠন শুনানি পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করেন। আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ২৪ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। পরে নাসিরসহ তিনজনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। তবে ক্রিকেটার নাসিরের ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। আদালত তার আবেদনটি খারিজ করে দেন।

এদিন মামলার আবেদনের শুনানি চলাকালীন মৌখিকভাবে তামিমা আদালতেকে জানিয়েছেন, তিনি গর্ভবতী। তবে বিচারাধীন মামলাটির রায় হওয়ার পর নাসির যদি তামিমার স্বামী হিসেবে বৈধতা না পান তাহলে তামিমার সন্তানের পিতৃপরিচয় নিয়েই প্রশ্ন উঠবে বলে জানিয়েছেন রাকিবের আইনজীবী ইশরাত হাসান।

ইশরাত হাসান জানান, আদালতে তামিমা বলেছেন, তিনি ছয় মাসের গর্ভবতী। কিন্তু যেখানে স্বামীর বৈধতার বিষয়টিই এখনও মীমাংসা হয়নি সেখানে তামিমার গর্ভের সন্তান নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হবে। যদি রাকিব এই মামলায় জেতেন তাহলে এই সন্তানের ভরণ-পোষনের বিষয় রয়েছে। অন্যদিকে, নাসির স্বামী হিসেবে বৈধতা না পেলে তামিমার সন্তানের পিতৃপরিচয় নিয়েও উঠবে প্রশ্ন।

এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তাম্মির স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে আদালতে এ মামলা করেন। এরপর গত ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে পিবিআই’র পুলিশ পরিদর্শক (নি.) শেখ মো. মিজানুর রহমান তিনজনকে দোষী উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, রাকিবকে তালাক দেননি তামিমা। আইনগতভাবে রাকিব তালাকের কোনো নোটিশও পাননি। তামিমা উল্টো জালিয়াতি করে তালাকের নোটিশ তৈরি করে তা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। যথাযথ প্রক্রিয়ায় তালাক না দেওয়ার ফলে তামিমা তাম্মি এখনো রাকিবের স্ত্রী হিসেবে বহাল রয়েছেন। দেশের ধর্মীয় বিধি-বিধান ও আইন অনুযায়ী এক স্বামীকে তালাক না দিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করা অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এমন পরিস্থিতিতে ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তামিমা তাম্মির বিয়ে অবৈধ।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: