কদিন পরেই বড় ভাইয়ের বিয়ে। বিয়ের আগে গায়ে হলুদের জন্য নতুন শাড়ি কিনেছিলেন প্রীতি সাহা। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় হলুদের আগেই না ফেরার দেশে চলে যেতে হলো তাকে। তাই তার শেষ বিদায়ে অনেক যত্ন করে তার গায়ে জড়িয়ে দেওয়া হয় হলুদ রাঙা সেই শাড়িটি।

প্রীতি সাহা ওরফে অন্বেষা ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা নিয়ামতপুর ইউনিয়নের বারইপাড়া গ্রামের স্কুলশিক্ষক তপন কুমার সাহার একমাত্র মেয়ে। প্রীতি কালীগঞ্জ শহরের সরকারি মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার মা শিপ্রা সাহাও একই উপজেলার মল্লিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

প্রীতির বাবা তপন কুমার সাহা জানান, ৬ জানুয়ারি বাড়ি থেকে কলেজে যাওয়ার পথে ফারাসপুর বটতলা নামক স্থানে ইজিবাইক থেকে পড়ে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এরপর তাকে নেওয়া হয় কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখান থেকে তাকে যশোর, পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে ঢাকায় নেওয়া হয়। বেসরকারি একটি হাসপাতালে মাথায় অপারেশন করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) দিনগত রাতে মারা যান প্রীতি।

প্রীতির ভাই সবুজ কুমার সাহা বলেন, আমার বিয়ে উপলক্ষে ছোট বোন খুব আনন্দ করছিল। গায়ে হলুদে যাবে বলে শাড়ি কিনেছিল। কিন্তু তার আগেই আমার বোনকে চলে যেতে হবে না ফেরার দেশে তা আমরা ভাবতেও পারিনি। তবে শেষ বিদায়ের আগে তার গায়ে তার কেনা পছন্দের হলুদ রাঙা শাড়িটি জড়িয়ে দেওয়া হয়।

প্রীতির শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, ও শুরু থেকেই মেধাবী ছিল। কলেজের বার্ষিক পরীক্ষায়ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে। তার চলে যাওয়ায় আমরা সবাই শোকাহত।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: