ডেস্ক রিপোর্টঃ আমার মায়ের মৃত্যুর পর আমার দু’চোখ ভরে জল এসেছে। আমি যখন পাহাড়ের এক তরুণ উপজেলা চেয়্যারম্যানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর পাই, তখনও তাই হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শুক্রবার (৪ মে) রাতে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমিতে খেলাঘর কেন্দ্রীয় আসরের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা নির্বাচনের বছর, এ বছর অনেক অঘটন ঘটানোর পাঁয়তারা আছে, চক্রান্ত আছে। পাহাড়ে আজও রক্তপাত হলো। শান্তির মধ্যে অস্থিরতা তৈরির জন্য একটা মতলববাজ মহল সক্রিয়। সোজা পথে পারে না, বাঁকা পথে আসে। আলোতে পারে না, অন্ধকারের আশ্রয় নেয়, রক্তপাতের আশ্রয় নেয়, ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেয়।

এ সময় ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে অভিযোগের লিখিত প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, কমিটি করলে অভিযোগ তো আসবেই। আমাদের কাছেও অভিযোগ আসছে। মাথাব্যথা হলে তো মাথা কেটে ফেলা যায় না। সমাধানের পথ আছে।

সংস্কৃতি অঙ্গন নিয়ে কাদের বলেন, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে টাকা ছড়াছড়ি। সেখানে পুষ্পিত আদর্শের পতাকা ধারণ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বড়ই দুর্দিন। এসব প্রতিষ্ঠানকে সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতার যে যাত্রা আমি শুরু করেছিলাম, সেটা সময়ের চাহিদা মেটাতে আজকে পারছে না। কিন্তু পারা উচিত ছিল। শিল্পিরা এত কম সম্মাননা পান, সংসার চলে না। যারা মূল্যবোধ নিয়ে এখনও যুদ্ধ করছে, তারাই বেশি কষ্টে আছে।

এসময় তিনি গুলিতে নিহত হওয়ার আগে রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমার) সহ-সভাপতি শক্তিমান চাকমা তাকে (ওবায়দুল কাদের) একটি অনুরোধ করেছিলেন বলেও জানান তিনি।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রায়ই মর্নিং ওয়াকের সময় তার (শক্তিমান) সঙ্গে আমার ফোনে কথা হতো। গতকালও (বৃহস্পতিবার) ফোন করেছিল, আজ তার ফোন পাইনি। পরশু দিন আমাকে বলেছিল- ভাই, আপনার কাছে কিছুই চাওয়ার নাই। আমার জীবন ঝুঁকির মুখে। আমার মেয়েটা রাঙ্গামাটি মেডিকেলে পড়ে। ওখানে আমি কিছুতেই তাকে নিয়ে স্বস্তিতে থাকতে পারছি না। আমি নিজেও শহরে যেতে পারি না। নানিয়ারচর উপজেলায় থাকি। আমার একটা অনুরোধ- আমার মেয়েটাকে একটু রক্ষা করেন, চট্টগ্রাম অথবা ঢাকায় তাকে ট্রান্সফার করে দেন।

আবেগাপ্লুত হয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, মেয়ের জীবন ঝুঁকির মুখে বলল, আর গতকাল (বৃহস্পতিবার) তার জীবন শেষ হয়ে গেল। আর তার জন্য আজও ৪/৫ জন মারা গেল!

খেলাঘর কেন্দ্রীয় আসরের চেয়ারপারসন অধ্যাপিকা পান্না কায়সারের সভাপতিত্বে এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, অধ্যাপক সামছুজ্জামান খান, অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারি প্রমুখ।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: