নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত শিশু জান্নাতুল ফেরদাউস তাসপিয়ার (৪) জানাজা পড়িয়েছেন তার বাবা চোখে গুলিবিদ্ধ মাওলানা আবু জাহের। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টায় হাজীপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে পূর্ব হাজীপুর গ্রামের মালেকার বাপের দোকান সংলগ্ন এলাকায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আজিম মির্জাসহ নিহত শিশুর স্বজন ও এলাকার কয়েক,শত লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে নিহত শিশু তাসপিয়ার বাবা আবু জাহের বিডি২৪লাইভকে বলেন, মুহূর্তেই কী হয়ে গেলো নিজেও বলতে পারবো না। দোকান থেকে একটি জুস,চকলেট ও চিপস নিয়ে বের হচ্ছিলাম। এসময় মহিন, রিমন, আকবর, নাঈমের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একদল সন্ত্রাসী বাজারে আসে। পরে তারা আমাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে পাশে থাকা গ্যাসের সিলিন্ডারে লেগে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। দ্রুত তাসপিয়াকে নিয়ে দোকান থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা আমাদের লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করলে তাসপিয়া মাথায় আঘাত পায়। পরে দোকানি মামুনের সহযোগিতায় আমরা বাড়ির দিকে যাওয়ার পথে পেছন থেকে আরও দুই রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে সন্ত্রাসীরা। এতে তাসফিয়া ও আমি গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। গুলিতে তাসপিয়ার মাথাসহ পুরো শরীর ঝাঁঝরা হয়ে যায়।

এ বিষয়ে হাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ আজিম মির্জা বিডি২৪লাইভকে বলেন, হাজীপুর সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এখানে আমরা কেউ নিরাপদ নই। আমি যে বাড়ি থেকে বের হই আমারও কোনো নিরাপত্তা নেই। কিছুদিন আগে সন্ত্রাসী রিমনের ব্যাপারে পুলিশ ও র‍্যাবের কাছে অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোনো ফল হয়নি। গ্রামের একজন ছিঁচকে সন্ত্রাসীকে যদি পুলিশ-র‍্যাব শায়েস্তা করতে না পারে তাহলে জনগণ নিরাপত্তা পাবে কোথায়।

উল্লেখ্য, বুধবার (১৩ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৪টায় বেগমগঞ্জের পূর্ব হাজীপুর গ্রামের মালেকার বাপের দোকানের সামনে জমির মাটি কাটা নিয়ে সেখানে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এসময় সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। এসময় শিশুসন্তান তাসপিয়াকে কোলে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছিলেন প্রবাসী জাহের। গুলিতে তিনিসহ তার শিশুকন্যা তাসপিয়া গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে নোয়াখালী থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ৮টায় শিশু তাসপিয়া কুমিল্লায় মারা যায়।শিশু তাসপিয়া নিহত হওয়ার ঘটনায় তার চাচা হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলা নম্বর ২৪। ওই মামলায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: