ডেস্ক রিপোর্টঃ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং ‍বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারী ফয়জুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

হামলার পরপরই তাকে গণপিটুনি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আটকে রাখে শিক্ষার্থীরা। পরে রাত নয়টায় হামলাকারী ফয়জুরকে র‌্যাব সদস্যরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।

এরপর রাত ১টার দিকে হাসপাতালের সামনে প্রেস ব্রিফিং করেন র‌্যাব-৯ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমদ।

এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হামলাকারী ফয়জুরকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার জ্ঞান ফিরেছে। সে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে। সে কোনো জঙ্গি সংগঠনের সদস্য কি না এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য জানা যায়নি। তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

জিজ্ঞাসাবাদে সে হামলার কারণ হিসেবে বলেছে, ‘জাফর ইকবাল ইসলামের শত্রু, তাই তার উপর হামলা করেছি।’

উল্লেখ্য, শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান চলাকালে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে পেছন থেকে মাথায় ছুরিকাঘাত করে ফয়জুর রহমান ফয়জুল নামে ২৫ বছর বয়সী এক তরুণ। এরপর তাকে সিলেটের ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) আনা হয়েছে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে।

এদিকে হামলার ঘটনায় ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবালের মাথা, বাম হাত ও পিঠে ২৬টি সেলাই লেগেছে এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত আছেন বলেও জানা যায়।

জাফর ইকবালের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পক্ষ থেকেও নিন্দা জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় শনিবার (৩ মার্চ) রাতে সিলেটের কুমারগাও এলাকার শেখ পাড়ায় ফয়জুরের বাসায় তল্লাশি করে কাউকে পায়নি পুলিশ। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার এক মামা সুনামগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের যুগ্ম আহবায়ককে আটক করে নিয়ে যায় র‌্যাব।

এসময় ফয়জুলদের বাড়ি থেকে কয়েকজনের জাতীয় পরিচয়পত্র, বই, ল্যাপটপ ও একটি ছোরাসহ বিভিন্ন ধরনের আলামত উদ্ধার করা হয়। এছাড়া কয়েকটি মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে। তবে ওই বাড়িতে কারও ছবি পাওয়া যায়নি।

পরে রাতে জালালাবাদ থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।

কে এই হামলাকারী

হামলাকারীর নাম ফয়জুর রহমান ফয়জুল (২৫)। বর্তমানে সে র‌্যাবের হাতে আটক রয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ ও র‌্যাব ফয়জুলকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে টুকেরবাজার এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতো সে। তার বাবা মাওলানা আতিকুর রহমান স্থানীয় একটি মহিলা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। ফয়জুলদের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায়। বছর দুয়েক আগে তার বাবা টুকেরবাজার এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করেন।

ফয়জুলরা তিন ভাই, সে সবার ছোট। অন্য দুভাইয়ের নাম আবুল ও হাসান। প্রতিবেশীরা জানিয়েছে, এই পরিবারটি স্থানীয়দের সঙ্গে মেলামেশা করতো না। এমনকী ফয়জুল স্থানীয় মসজিদে নামাজও পড়তো না। তার লেখাপড়ার বিষয়েও প্রতিবেশীরা কিছুই জানাতে পারেনি। এদিকে, জাফর ইকবালের ওপরে হামলার পর ফয়জুলের পরিবারের সদস্যরা ঘরে তালা মেরে পালিয়ে গেছে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: