জেলখানায় আপনার স্বামী খুব বিপদে, বিকাশে টাকা পাঠান এখনি!

করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ার পর থেকে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে কয়েদি ও হাজতিদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি প্রতারক চক্র। কয়েদি ও হাজতিদের সাথে স্বজনদের সাক্ষাৎ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ না জেনে কিছু হাজতি কয়েদির স্বজনরা বিভিন্ন সময়ে গেইটে আসেন। তাদের মামলা জটিলতার বিষয়গুলি নিয়ে পরিবারের লোকজন কথা বলতে চান।

অভিযোগ উঠেছে,কারাবন্দীদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের সুযোগ নিয়ে তৎপর হয়ে উঠেছে এক প্রতারক চক্র। প্রতারিত হয়ে কারাবন্দীর আত্মীয় স্বজনদের কান্নার রোল। প্রতারক চক্র কৌশলে কারাবন্দীদের আত্মীয়- স্বজনদের মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সাক্ষাত বন্ধের সুযোগ নিয়ে একটি প্রতারক চক্র স্বজনদের মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে কারাবন্দীদের বাবা- মাকে বলছে, আপনার ছেলে অসুস্থ। এখনই মারা যাবে।পুলিশ রিমান্ডে নিবে। ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা লাগবে। কাউকে বলছে, জেলখানায় নির্যাতন করা হচ্ছে। টাকা না দিলে মেরে ফেলবে। টাকা পাঠানোর জন্য বিকাশ নাম্বারও দিচ্ছে প্রতারক চক্র। কারাগার কর্তৃপক্ষ সতর্কতার সাথে কাজ করলেও এবিষয়ে কিছু করতে পারছে না বলে জানা গেছে। কোন প্রতারক নিজেকে কারাগার হাসপাতালের চিকিৎসক পরিচয় দিয়েও প্রতারণা করছে। তারা স্বজনদের বলছে, এক ব্যক্তি বলেন, এখনই টাকা পাঠান। না হলে তাকে আর বাঁচানো যাবে না।

জানা যায়, ময়মনসিংহ কারাগারে বন্দি আজিজুল। তার বাড়ি ফেনী জেলায়। প্রতারকরা তার স্ত্রীর নাম্বারে ফোন করে বলে আজিজুল কে বাঁচাতে এখনো ৫০ হাজার টাকা লাগবে। পরে তার স্ত্রী গত ০৩/০১/২২ ইং তারিখে এক ব্যাক্তির এই নাম্বারে ০১৮৪৫-৬১৯৬২২ এই নাম্বারে ২৭,৫০০ টাকা বিকাশে পাঠায়।

ময়মনসিংহ কারাগারে বন্দি আজিজুলের স্ত্রী তাসলিমা টেলিফোনে বিডি২৪লাইভকে জানান, জয়নাল পুলিশ নামের একজন ব্যক্তি তার কাছ থেকে ২৭ হাজার ৫০০ টাকা নেন। টাকা নেয়ার সময় বলেন আমার স্বামী নাকি খুব বিপদে পড়েছে। তাই জরুরি ৫০ হাজার টাকা লাগবে। আমি বিকাশে টাকা পাঠাই।

এখন তিনটি নাম্বার বন্দ পাওয়া যায়। আমি দারদেনা করে টাকা পাঠিয়েছি। আমি এখন কি করবো।ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে কারা বন্দীদের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে প্রতারক চক্রের সদস্যরা প্রতিনিয়ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তারা কারাগারের বন্দীদের বিষয়ে বিভিন্ন অসত্য কথা সাজিয়ে নিম্নোক্ত নাম্বার গুলো হতে কল দিয়ে নিজেকে পুলিশ,কারারক্ষী এবং বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বন্দীদের বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কারাগার কর্তৃপক্ষ সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেও তা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। উক্ত কারনে কারা বন্দীদের মাঝে আতংক সৃষ্টি হচ্ছে এবং কারাগারের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। ফাঁসির আসামি -সেলিম বাড়ি ফুলবাড়িয়া, ময়মনসিংহে তার মায়ের কাছ থেকে ১৫,০০০/- হাজার টাকা নিয়ে গেছে।এভাবে প্রতিদিন বিভিন্ন বন্দীদের স্বজনদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তার শুধু কাঁদছে। নাম্বার গুলো হলো: (১)০১৮১৪-০৯৪৩৮৫, (২)০১৮৪৫-৬১৯৬২২, (৩)০১৭৯২-৩৬৮০২৯ । উপরোক্ত নাম্বার গুলো বন্দীদের থেকে সংগ্রহ করা।

কারা কর্তৃপক্ষ সবাইকে জানিয়েছে, কোন প্রতারক চক্রের সাথে টাকা লেনদেন করতে নিষেধ করা হয়েছে। ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবীর চৌধুরী বিডি২৪লাইভকে জানান, করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ার পর থেকে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে কয়েদি ও হাজতিদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ। যদিও সপ্তাহে একদিন টেলিফোনে তাদের কথা বলার সুযোগ রয়েছে। কোন কারাবন্দি অসুস্থ হয়ে গুরুত্ব সহকারে তার চিকিৎসা করা হয়। কোন কয়েদী হাজতি অসুস্থতার কারণে শংকটাপন্ন হয়ে পড়লে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করা হয়। সকল চিকিৎসা সেবাই দেয়া হয় সরকারী ভাবে। কোন টাকা পয়সা লাগে না। ওধুষও সরবরাহ করা হয় বিনা টাকায়। তিনি বলেন, এই চক্রটি কারাগারের বাইরের। বাইরে থেকেই তারা এসব করছে।

ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিবি) ওসি মো: সফিকুল ইসলাম বিডি২৪লাইভকে জানান, বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। মাননীয় জেলা পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশনা রয়েছে যে, পুলিশের নাম ভাঙিয়ে যারা অপরাধ করবে তাদের ছাড় নেই। এই প্রতারক চক্র চিহ্নিত করতে এবং ধরতে আমাদের স্পেশাল টিম কাজ করছে। প্রকারক চক্রের বিষয়ে কোন তথ্য পেলে জেলা গোয়েন্দা সংস্থা ডিবিকে অবহিত করার আহবান জানান ওসি সফিকুল ইসলাম।

     আরো পড়ুন....

পুরাতন খবরঃ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  

ফেসবুকে আমরাঃ