করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির পাশাপাশি সপ্তাহব্যাপী তীব্র গরমে পাবনার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাপদাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে ডায়রিয়া। পানিশূন্যতাসহ তাপদাহের কারণে মানুষ অসুস্থ হয়ে ছুটছেন বিভিন্ন হাসপাতালে। চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে সর্বোচ্চ ৭০ জন রোগী পাবনা জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়। অতিরিক্ত রোগীর কারণে শয্যা সংখ্যার অনেক বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। লোকবল সংকটের কারণে ডায়রিয়া রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

পাবনা জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অন্য সময়ের তুলনায় হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক রোগী বেশি। ৩০ শয্যার ডায়রিয়া ওয়ার্ডে আজ বুধবার পর্যন্ত এক সপ্তাহে ৪৫৫ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬৫ জন রোগী ডায়রিয়ার চিকিৎসা নিয়েছেন। স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেকেই মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আইয়ুব হোসেন বলেন, ‘অতিরিক্ত তাপদাহের কারণে পানিশূন্যতাসহ অনেকেই এ সময় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। অতিমাত্রায় গরমে ডায়রিয়া ছাড়াও নবজাতক শিশুসহ বয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছেন গরম ও ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে। ফলে হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে।’ তবে, এতে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু হয়নি বলে জানান তিনি।

ডা. আইয়ুব বলেন, ‘করোনা রোগীর চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি আকস্মিক ডায়রিয়া রোগী বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

পাবনা অঞ্চলের ঈশ্বরদী আবহাওয়া কার্যালয় জানায়, গত এক সপ্তাহের মধ্যে চলতি মাসের ২০ তারিখে সর্বোচ্চ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এরপর থেকে প্রতিদিনই ৩৮-৩৯ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছে পাবনা অঞ্চলে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: