গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে আটক হয়েছেন ঢাকাই সিনেমার এক সময়ের আলোচিত চিত্রনায়িকা একা। তার বিরুদ্ধে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর ও মাদকদ্রব্য আইনে করা পৃথক দুই মামলায় রিমান্ড ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের এডিসি হাফিজ আল ফারুক জানান, হাজেরা বেগম নামে এক গৃহকর্মী মাসে পাঁচ হাজার টাকায় একার বাসায় তিন মাস ধরে ছুটা কাজ করে আসছিলেন। বাসা পরিবর্তনের সময় হাজেরাকে অতিরিক্ত কাজ করার কথা বলেন একা। তখন হাজেরা বলেন, আগে অবহিত না করায় হঠাৎ বাড়তি কাজ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। অন্য যেসব বাসায় তিনি কাজ করেন, তারা বিপদে পড়বেন। এক পর্যায়ে হাজেরা তার বর্তমান মাসের বেতনও চান। কিন্তু আগের দু’মাসের বেতন পরিশোধ করেন অভিনেত্রী। এরপর একা ক্ষিপ্ত হয়ে গৃহকর্মীকে বেদম মারধর করেন। খবর পেয়ে প্রতিবেশী ও আশপাশের লোকজন একার বাসা ঘেরাও করেন। তারা ৯৯৯-এ কল করেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে একা ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রাখেন। পরে আশপাশের লোকজন ও পুলিশ মিলে দরজা কোনোমতে ভেঙে একাকে আটক করা হয়। হাফিজ আল ফারুক আরও বলেন, একার বাসায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ পিস ইয়াবা, ৫০ গ্রাম গাঁজা এবং অর্ধেক বোতল মদ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রায় নিয়মিত ইয়াবা সেবনের কথা স্বীকার করেন।

গত শনিবার (৩১ জুলাই) রাতে একাকে ধরে এনে হাতিরঝিল থানায় আটকে রাখা হয়। আটকের পর তার কিছু ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়- পর্দা কাঁপানো নায়িকার চেহারায় লাবণ্যের ছাপ নেই। রুগ্ন-শীর্ণ একাকে দেখে কোনভাবেই বোঝার উপায় নেই, একসময় রুপালি পর্দা মাতিয়ে তুলতেন তিনি। চেহারায় শুধু মলিনতাই নয়, অস্বাভাবিক পরিবর্তনও হয়েছে তার। পর্দার লাবণ্যময়ী নায়িকাকে এমন রূপে দেখে ভক্তদের আফসোসের শেষ নেই। আফসোস করাটাই স্বাভাবিক, কেননা একাকে এভাবে দেখতে হবে সেটি হয়তো তার ভক্তদের কল্পনাতেও আসেনি। জানা গেছে নিয়মিত মাদক সেবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ায় এই নায়িকার এমন দশা হয়েছে।

তৌহিদ আহনাফ নামের একজন নায়িকা একার দুইটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, দীর্ঘদিনের আড়াল ভেঙে ৫ মাস আগে একা এসেছিলো শাহরিয়ার নাজিম জয়ের ৩০০ সেকেন্ড অনুষ্ঠানে। তার সেই পোস্টের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অভিনেতা ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিমের ৩০০ সেকেন্ড অনুষ্ঠানের প্রচারিত একটি পর্বে অতিথি হয়ে এসেছিলেন তিনি। নায়িকার তখনকার চেহারার সঙ্গে বতর্মান চেহারার বিরাট বড় পার্থক্য খুঁজে পাচ্ছেন ভক্তরা। নেটাগরিকদের একজন লিখেছেন- ‘একাকে এভাবে দেখব আমরা ভাবতেও পারছি না।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘একার এই পরিণতি কেন?’

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: