নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ড. রুহুল আবিদ। সঙ্গে তার হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান ‘হায়েফা’। মূলত দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ আর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছিলেন ড. আবিদ ও তার সহকর্মীরা। সেবা দেয়ার পাশাপাশি সাধারণের মাঝে সচেতনতা তৈরিতেও কাজ করছেন তারা।

হায়েফা- হেলথ এন্ড এডুকেশন ফর অল এই প্রতিষ্ঠানটি ২০১৩ সালে ড. রুহুল আবিদ প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত চিকিৎসা দেয় সুবিধাবঞ্চিত পেশাজীবিদের। আর এই প্রান্তিক ও সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়ে সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় চলতি বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন বাংলাদেশি এই চিকিৎসক ও তার প্রতিষ্ঠান।

ড. রুহুল আবিদ প্রথমে রাজধানী ঢাকার দিনমজুর রিকশাচালকদের মধ্যে চিকিৎসা কার্যক্রম দিয়ে শুরু করেন তার কাজ। এরপর প্রায় ১০ হাজার গার্মেন্ট শ্রমিককে চিকিৎসাসেবা দেন তিনি ও তার প্রতিষ্ঠান। আর বর্তমানে এই কার্যক্রম মূলত রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে ঘিরে।

নোবেল শান্তির জন্য মনোনয়নপ্রাপ্ত হায়েফা’র প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ডা. রুহুল আবিদের সাথে কথা যমুনা নিউজের। তিনি জানান, ইতোমধ্যেই প্রায় দেড়লাখ রোহিঙ্গাদের মাঝে চিকিৎসা ও ঔষধ দেয়ার কার্যক্রম শেষ করেছে হেলথ এন্ড এডুকেশন ফর অল। যাদের মূল লক্ষ্য কেবল চিকিৎসাই নয়, তার সঙ্গে সচেতনতা তৈরিও। ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, অ্যাজমা, অপুষ্টিজনিত রোগ এবং সার্ভিক্যাল ক্যান্সারের মত নন কমিউনিকেবল রোগের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে হায়েফা।

কুড়িগ্রামের তিন উপজেলা- উলিপুর, নাগেশ্বরী ও চিলমারীর প্রায় ৬০ হাজার নারীর মধ্যে সার্ভিক্যাল ক্যান্সারের স্ক্রিনিং কার্যক্রম ও চিকিৎসা দিয়েছে ড. রুহুল আবিদের দল।

হায়েফা’র সিনিয়র ডিরেক্টর মোহাম্মদ মনজুর ইকবাল বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য সকল নন-কমিউনিকেবল ডিজিজগুলোতে মানুষকে সাহায্য করা এবং একই সাথে সচেতনতা তৈরি করা।

এই কর্মযজ্ঞের জন্য ইউনির্ভাসিটি অব ম্যাসাচুসেটস ২০২০ এ শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেয় ড. আবিদ ও তার প্রতিষ্ঠানকে। ড. আবিদ এই পুরস্কারের জন্য এককভাবে মনোনীত ২১১ জনের একজন। এর আগে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে শান্তিতেই নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনুস ও তার প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক।

হায়েফা’র ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া তথ্যমতে, ড. রুহুল আবিদ বাংলাদেশের ঢাকা থেকে মাস্টার্স পাস করেন। পরে জাপানের নাগোয়া ইউনিভার্সিটি থেকে মলিকিউলার বায়োলজি ও বায়োকেমিস্ট্রিতে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। ২০০১ সালে হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল থেকে ফেলোশিপ পান। বর্তমানে তিনি ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়ারেন আলপার্ট মেডিক্যাল স্কুলের সহযোগী অধ্যাপক, রড আইল্যান্ড হসপিটালের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর ও ব্রাউন গ্লোবাল হেলথ ইনিশিয়েটিভের এক্সিকিউটিভ ফ্যাকাল্টি মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: