যেই ন্যাটোর সদস্যপদ নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে জটিলতা ও দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছিল ইউক্রেনের। সেই ন্যাটোয় এখন আর যোগ দিতে চাচ্ছেন না ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সোমবার রাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজে সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন তিনি। রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পেছনে এই বিষয়টিই অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।

ইউক্রেনের রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী দুটি অঞ্চল দনেৎস্ক ও লুহানস্ক বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আপস করতে আপাতত এই বিষয়ে সম্মত হয়েছেন জেলেনস্কি। এবিসি নিউজে সম্প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমি অনেক আগেই এই বিষয়ে নিশ্চুপ হয়ে গেছি—যখন বুঝতে পেরেছি যে, ন্যাটো ইউক্রেনকে মেনে নিতে প্রস্তুত নয়।’ তিনি বলেন, ‘ন্যাটো জোট বিতর্কিত বিষয় ও রাশিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষে যেতে ভয় পায়।’ ন্যাটোর সদস্যপদের বিষয়ে উল্লেখ করে জেলেনস্কি বলেন, তিনি এমন প্রেসিডেন্ট হতে চান না যে, কিনা হাঁটু গেড়ে অন্যের কাছে কোনো কিছু প্রার্থনা করছে।’

এর আগে, রাশিয়া বারবার বলেছে তাঁরা বর্তমানে স্নায়ু যুদ্ধের সময় রাশিয়াকে ঠেকাতে সৃষ্ট সামরিক জোট ন্যাটোতে তাঁদের প্রতিবেশী ইউক্রেন যোগ দিক। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাবেক সোভিয়েত ব্লকের দেশগুলোকে ন্যাটোতে গ্রহণ করার উদ্যোগ ও পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর সম্প্রসারণ ক্রেমলিনকে ক্ষুব্ধ করেছে। রাশিয়া মনে করে ন্যাটোর পূর্বমুখী সম্প্রসারণ তার দোরগোড়ায় পশ্চিমাদের তরফ থেকে দেশটির নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলার চেষ্টা।

উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণের আদেশ দেওয়ার কিছুক্ষণ আগে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন পূর্ব ইউক্রেনকে বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল দনেৎস্ক ও লুহানস্ককে ‘প্রজাতন্ত্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। এর আগে, রাশিয়া ২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত করে নেয়।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: