পীরের নিষেধ, ভোট দেন না এক ইউনিয়নের ১২ হাজার নারী

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রুপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারীরা ভোট কেন্দ্রে যান না। পীরের ফতোয়া নারীরা ঘরের বাইরে গেলে পর্দার খেলাপ হবে তাই তারা ভোট কেন্দ্রে যান না। পীর বলেছেন, নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে বাড়ির বাইরে গেলে এলাকায় কলেরা-বসন্ত পুনরায় মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়বে। ফলে জাতীয় পরিচয়পত্র নিলেও এ এলাকার নারীরা কখনোই নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেননি।

ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের ভাগ্য নির্ভর করে শুধু পুরুষ ভোটারদের ওপর। এমনকি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী সদস্যরাও নির্বাচিত হন শুধু পুরুষদের ভোটে। পীরের আদেশকে প্রাধান্য দিয়ে এত দিন তাঁরা নিজের ভোটটিও প্রয়োগ করেননি। শুধু তা-ই নয়, স্থানীয় প্রথা মেনে ভোটকেন্দ্রে যান না এলাকার হিন্দু-খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী নারীরাও। ফলে স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসেও ইউনিয়নের ১২ হাজার নারী ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তবে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে এলাকার নারীরা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে আশা করছে প্রার্থীরাসহ স্থানীয় প্রশাসন।

এ বিষয়ে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রুপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারী ভোটারদের ভোট প্রদানে আগ্রহী করতে উদ্বুদ্ধকরণ সভা করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার (১ জানুয়ারি) সকালে গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত কলেজ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কোরআন ও হাদীসের আলোকে নারীদের ভোট প্রদানের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন উপজেলা কমপ্লেক্স জামে মসজিদের খতিব মাওলানা ইউনুস হোসেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলী হরির সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমে আমি জানতে পেরেছি রুপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারীরা কোনো নির্বাচনেই তাদের ভোট প্রয়োগ করেন না। আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি কোনো আলেম নারীদের ভোট প্রদান থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দেন না। পর্দা রক্ষা করে নারীদের ভোট প্রদান ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক নয়।

তিনি বলেন, নারীরা ভোট প্রদান থেকে বিরত থাকলে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। অযোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত হলে ধর্মীয়ভাবে নারীরাও দায় এড়াতে পারবেন না। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে নারীদের ভোট প্রদান করতে হবে।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ। তিনি বলেন, ভোট প্রদান প্রত্যেকের নিজস্ব ব্যাপার। শুধু তাই নয়, এটি মৌলিক অধিকারও বটে। তবে নারীর ভোটপ্রদানে কেউ বাধা দেয়, তাহলে পুলিশ বসে থাকবে না। প্রয়োজনে বাড়িতে গিয়ে নারী ভোটারদের কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

জানা গেছে, রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডে মোট ভোটারের অর্ধেক হচ্ছেন নারী ভোটার। আগামী ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে এই ইউনিয়নে তিনটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১০ জন নারী প্রার্থীসহ চেয়ারম্যান, সদস্য পদ মিলিয়ে শতাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

     আরো পড়ুন....

পুরাতন খবরঃ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  

ফেসবুকে আমরাঃ